বিভিন্ন সংকট সত্ত্বেও বছর শেষে উড়োজাহাজ সরবরাহ লক্ষ্যমাত্রা বজায় রাখতে সক্ষম হবে বলে জানিয়েছে এয়ারবাস। তবে ২০২৩ সালেও সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ফরাসি উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। শ্রমিক সংকট ও কাঁচামাল সরবরাহে ঘাটতির কারণে এ সমস্যা অব্যাহত থাকবে। খবর স্ট্রেইটস টাইমস।
কভিড-১৯ মহামারীকালে দেয়া নানা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় আকাশপথে ভ্রমণ অনেক বেড়েছে। ফলে বিভিন্ন এয়ারলাইনসই নিজেদের উড়োজাহাজের বহর আরো উন্নত করার জন্য জ্বালানি সাশ্রয়ী মডেলের ক্রয়াদেশ দিচ্ছে। ডয়চে লুফথানসা ও এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম জানিয়েছে, শীতকালে শিডিউল আরো ভালো হবে। মানুষ জীবনযাপনের খরচ কমিয়ে আনা সত্ত্বেও আরো বেশি বুকিং দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বের বৃহত্তম উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চলতি বছরে আরো ৭০০টি উড়োজাহাজ সরবরাহ করা হবে এবং প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া এ৩২০ পরিবারের উড়োজাহাজের সংখ্যা ২০২৫ সালের মধ্যে মাসিক ৭৫ ইউনিটে উন্নীত করার চেষ্টা করবে।
এয়ারবাসের প্রধান নির্বাহী গুইয়ম ফৌরি বলেন, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ওয়াইড বডি উড়োজাহাজ কীভাবে আরো বেশি উৎপাদন করা যায় সে বিষয়ে অধ্যয়ন করা হচ্ছে। আমরা খুবই খারাপ পরিবেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। সবখানেই আমাদের কিছু সমস্যা রয়েছে। বেশকিছু যন্ত্রাংশ অনেক দেরিতে পাচ্ছি, যার ফলে উৎপাদন দক্ষতাও কমে আসছে।
লক্ষ্যমাত্রা পূরণের বিষয়টিকে আঁকড়ে ধরে রাখার অর্থ হলো, এয়ারবাসকে অবশ্যই বছরের বাকি সময়ে প্রতি মাসে ৮৮টি উড়োজাহাজ সরবরাহ করতে হবে। যদিও সেই মাত্রাটা শেষের কয়েক মাসে ক্রমাগত বাড়তেই থাকে। এমনই কিছু ভবিষ্যদ্বাণী পরবর্তী বছরের জন্যও জানিয়েছেন ফৌরি।
আবার এয়ারবাস যখন সরবরাহ ঘাটতিতে ভুগছে সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দাম সেটাকে আরেকটু এগিয়ে দিচ্ছে। ফলে উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির বছর শেষে নগদ অর্থপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা ৩৫০ কোটি ইউরো থেকে ৪৫০ কোটি ইউরোতে পৌঁছবে। প্রতিষ্ঠানটির করোনা মহামারীপূর্ব সরবরাহের পেমেন্ট এখন ইউরোপীয় মুদ্রায় বদল করে নেয়া হচ্ছে।
তৃতীয় প্রান্তিকে লভ্যাংশ ও কর ছাড়াও এয়ারবাসের আয় হয়েছে ৮৩ কোটি ৬০ লাখ ইউরো। এক বছর আগেও যা ছিল ৬৬ কোটি ৬০ লাখ ইউরো। এ সময়ে সংস্থাটির আয় ২৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৩১ কোটি ইউরোতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।










