যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প-কারখানায় উৎপাদন খাতে নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে সরবরাহ ব্যয়। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ার পাশাপাশি শুল্কের কারণে আমদানি করা পণ্যের দামও বেড়েছে। আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে কাঁচামাল, জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়ছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
শিল্প খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, কিছু কাঁচামালের দাম এক বছরে প্রায় দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান পণ্যের দাম বাড়ানোর কথা ভাবছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আরো বাড়তে পারে।
ওহাইওভিত্তিক গিটার যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আর্থকোয়েক ডিভাইসেসের প্রধান নির্বাহী জুলি রবিনস বলেন, ‘একই পণ্য কিনতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছর এরই মধ্যে দুবার পণ্যের দাম বাড়িয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ ব্যয়ের এ বৃদ্ধি বিভিন্ন কারণে হচ্ছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। আবার শুল্কের কারণে বিদেশ থেকে আনা কাঁচামালের দামও বেড়েছে। এর সঙ্গে এআই প্রযুক্তির জন্য ডেটা সেন্টার নির্মাণ দ্রুত বাড়ায় প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের চাহিদাও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট ফর সাপ্লাই ম্যানেজমেন্টের (আইএসএম) আগস্টের জরিপের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন খাতের এক ডজনের বেশি শিল্প কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। কোনো শিল্পই দাম কমার কথা জানায়নি। প্রতিষ্ঠানটির মূল্যসূচকে টানা ২৩ মাস ধরে ব্যয় বাড়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে উৎপাদনের মধ্যবর্তী পর্যায়ের পণ্যের দাম এক বছর আগের তুলনায় ১১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। অপরিশোধিত পণ্যের দাম বেড়েছে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ। বিপরীতে উৎপাদিত চূড়ান্ত পণ্যের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ।
জ্বালানির দামও চাপ বাড়াচ্ছে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের খুচরা দাম গ্যালনপ্রতি রেকর্ড ৬ দশমিক ২৭ ডলারে উঠেছে। আগস্টে পণ্য পরিবহনের গড় ব্যয়ও এক বছর আগের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে এআই প্রযুক্তির কারণে ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের সরবরাহে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। মেমোরি চিপ ও প্রসেসরের মতো কিছু যন্ত্রাংশ পেতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিশ্বজুড়ে ইলেকট্রনিকস নির্মাতাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সাম্প্রতিক এক জরিপে যন্ত্রাংশের সীমিত বা দীর্ঘ সরবরাহ সময়ের কথা জানিয়েছে।
তবে বাড়তি ব্যয়ের মধ্যেও নতুন কারখানা বা উৎপাদন সক্ষমতায় বড় বিনিয়োগ করতে চাইছে না অনেক প্রতিষ্ঠান। ইরান যুদ্ধ, শুল্ক ও ভবিষ্যৎ চাহিদা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।










