চলতি বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক কম ছিল। শ্রম বিভাগের তথ্য বলছে, ওই মাসের শেষে মোট ১ কোটি ১৩ লাখ নতুন কর্মসংস্থান যুক্ত হয়েছে। এপ্রিলে মোট নতুন কর্মসংস্থান ছিল ১ কোটি ১৭ লাখ। খবর এপি।

গত মার্চে নতুন কর্মসংস্থানের সংখ্যা ১ কোটি ১৯ লাখে পৌঁছেছে। ২০ বছরেরও বেশি সময়ের ব্যবধানে এ বছরের মার্চে দেশটিতে সর্বোচ্চ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। সম্প্রতি নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমার পর পরই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। দেশটিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মূল্যস্ফীতির হার। এতে ব্যয় বেড়েছে মার্কিন নাগরিকদের। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা অর্থনৈতিক মন্দার মুখোমুখি হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে নতুন কর্মী নিয়োগে তত্পর হয়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশেষ করে ভ্রমণ ও বিনোদন সম্পর্কিত পরিষেবাগুলোয় চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

এ বিষয়ে ইনডিসি হায়ারিং ল্যাবের অর্থনৈতিক গবেষণার পরিচালক নিক বাংকার বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এ ধরনের হয় না। যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে কালো মেঘের ছায়া দেখা যেতে পারে। তবে এখনো পরিস্থিতি বেশ উজ্জ্বল।

কভিডপূর্ব সময়ের তুলনায় বর্তমানে চাকরি থেকে পদত্যাগ নেয়ার হার বেড়েছে মার্কিনদের মধ্যে। অধিকাংশই বেশি বেতনের নতুন কোনো চাকরির জন্য আগের চাকরি ছাড়ছেন। তবে মে মাসে চাকরি ছাড়ার সংখ্যা তুলনামূলক কিছুটা কম ছিল। ওই মাসে মার্কিন নাগরিকদের চাকরি থেকে পদত্যাগের সংখ্যা এপ্রিলের তুলনায় ৬০ হাজার কমে ৪৩ লাখে দাঁড়ায়।

অর্থনীতিবিদরা কর্মসংস্থানের সংখ্যা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কেননা শ্রমবাজার কিছুটা শীতল হলে পরিস্থিতি অনুকূলে আসবে। এতে মূল্যস্ফীতির হারও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে ধারণা অর্থনীতিবিদদের। এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার চার দশকের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে আনতে মুদ্রানীতি কঠোর করছে ফেডারেল রিজার্ভ।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী চাহিদা অব্যাহতভাবে ঊর্ধ্বমুখী। মার্কিন সরকার জানায়, মে মাসে নিয়োগকর্তারা মোট ৩ লাখ ৯০ হাজার কর্মসংস্থান যোগ করেছে। এর মধ্যে দেশটিতে বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে, যা প্রায় ৫০ বছরের সর্বনিম্ন। অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চাকা ভোক্তা ব্যয়। মে মাসে ভোক্তা ব্যয় নিম্নমুখী ছিল। গত বছরের ডিসেম্বরের পর এ প্রথম দেশটিতে ভোক্তা ব্যয় কমেছে।

এদিকে আগামী মাসগুলোয় কর্মী চাহিদা কিছুটা কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গত মাসের প্রতিবেদনে ২ লাখ ৭৫ হাজার কর্মসংস্থান যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।