বর্তমান বিশ্বের সব থেকে আলোচিত সমস্যাগুলোর অন্যতম হয়ে উঠেছে জলবায়ু পরিবর্তন। সদ্য নির্বাচিত অস্ট্রেলীয় সরকারের আইনি এজেন্ডার তালিকায় জলবায়ু পরিবর্তনকে শীর্ষস্থানে রাখা হবে। চলতি বছরের ২১ মে অস্ট্রেলিয়ায় জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটে জয়লাভ করে অ্যান্থনি আলবানিজ নতুন সরকার গঠন করেন। এ মাসেই নতুন সরকারের প্রথম সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম সংসদ অধিবেশনে আইনি এজেন্ডাগুলোর মধ্যে প্রধান স্থানে থাকবে জলবায়ু পরিবর্তন। খবর এপি।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অস্ট্রেলীয় সরকারের একটি বিল পাস করার কথা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ৪৩ শতাংশ কমাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশটির সরকার। ২৬ জুলাই সংসদ অধিবেশনে এ মর্মে বিলটি পাস করা হবে। অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বাওয়েন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে আনতে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) তৈরির দিকে ঝোঁক বেড়েছে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর। এর ধারাবাহিকতায় সুলভ মূল্যের ইভির আমদানি শুল্ক ও কর বাতিল করার বিষয়েও একটি বিল পাস করবে অস্ট্রেলীয় সরকার। দেশটির সরকারি তথ্য বলছে, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় মোট গাড়ি বিক্রির মাত্র দেড় শতাংশ ইভি বা হাইব্রিড গাড়ি। অন্যদিকে দেশের মোট কার্বন নিঃসরণের ১০ শতাংশ দায় যাত্রীবাহী গাড়িগুলোর।

অস্ট্রেলিয়ার নতুন মধ্য বামপন্থী সরকারের প্রত্যাশা, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির নতুন গাড়ি বিক্রির ৮৯ শতাংশ হবে ইভি। সরকারি বহরের মধ্যে ৭৫ শতাংশ গাড়ি হবে কার্বন নিঃসরণমুক্ত। সাধারণত প্রতি তিন বছর পর সরকারি গাড়িগুলোর বাজারে বিক্রি করা হয়। ফলে অদূর ভবিষ্যতে একটি সেকেন্ড হ্যান্ড ইভি বাজারও দেখা যাবে দেশটিতে।

তবে ৪৩ শতাংশ গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না বলে জানান ক্রিস বাওয়েন। তিনি বলেন, এটি নিশ্চয়তা ও স্থিতিশীলতার বিষয়। বিশেষ করে ব্যবসায় বিনিয়োগকারীদের জন্য।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনস দলের নেতা অ্যাডাম ব্যান্ড বলেন, নতুন কোনো কয়লা ও গ্যাস প্রকল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে সরকারকে চাপ দেবেন তিনি। ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর ৭৫ শতাংশ করার ইচ্ছা গ্রিনসের। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী এ হার ৪৩ শতাংশ।

গত বছর অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বা ৪১ লাখ মেট্রিক টন (৪৫ লাখ টন) বাড়ে। গত ১৫ বছরে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে এ বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ছিল বলে জানান ক্রিস বাওয়েন। এর জন্য পূর্ববর্তী সরকারের নয় বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেন তিনি।

গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের এমন অভূতপূর্ব বৃদ্ধির জন্য কয়েকটি বিষয়কে চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষকরা। এর মধ্যে প্রধানত রয়েছে যানবাহন পরিবহনে কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি। মহামারীজনিত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার সড়কে বেড়েছে গাড়ির সংখ্যা। এতে করে যানবাহন পরিবহনগত কারণে কার্বন নিঃসরণ বেড়েছে ৪ শতাংশ। পাশাপাশি কৃষিকাজে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের হারও বেড়েছে লক্ষণীয় মাত্রায়। সংশ্লিষ্ট খাত থেকে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ বেড়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুম ও খরার পর বৃষ্টির মুখ দেখেন অস্ট্রেলিয়ার কৃষকরা। এরই ধারাবাহিকতায় কৃষিকাজে গতি আসে। একই সঙ্গে বাড়ে কৃষিজনিত গ্যাস নিঃসরণও।