লেবাননের রাজধানী বৈরুতে নজিরবিহীন বিস্ফোরণের ঘটনায় দেশটিতে মজুদ করা খাদ্যশস্যের ৮৫ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী দিনগুলোয় ভয়াবহ খাদ্য সংকটে পড়তে পারে দেশটি। সংকট সামলাতে প্রাথমিকভাবে বৈরুতে ৫০ হাজার টন গমের আটা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি)। লেবাননের জনগণের জন্য খাদ্যসহায়তার অংশ হিসেবে এসব আটা বৈরুত পাঠানো হবে। খবর ওয়ার্ল্ডগ্রেইনডটকম ও  রয়টার্স।

জাতিসংঘের অফিস ফর দ্য কো-অর্ডিনেশন অব হিউমেনিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্সের (ওসিএইচএ) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের পর জাতীয় খাদ্যশৃঙ্খল ধরে রাখতে ও সম্ভাব্য খাদ্য সংকট এড়ানোর জন্য লেবাননের জনগণকে সহায়তার অংশ হিসেবে গমের আটা দেয়া হচ্ছে। ১৭ হাজার ৫০০ টনের প্রাথমিক চালানটি আগামী ১০ দিনের মধ্যে বৈরুত বন্দরে পৌঁছতে পারে। সহায়তার বাকি খাদ্যপণ্য পরবর্তী এক মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশটিতে পাঠানো হবে। 

৪ আগস্ট লেবাননের রাজধানী বৈরুতকে তছনছ করে দেয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। দেশটির প্রশাসন জানিয়েছে, বৈরুত বন্দরের গুদামে কয়েক বছর ধরে পড়ে থাকা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের কারণে বিস্ফোরণটি ঘটেছে। ছয় বছর আগে একটি কার্গো জাহাজ থেকে জব্দ করা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট এতদিন বন্দরের গুদামে কেন পড়ে ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিস্ফোরণের পর তুমুল বিক্ষোভের মুখে এরই মধ্যে পতন ঘটেছে লেবানন সরকারের।

তবে এ বিস্ফোরণ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে লেবাননের খাদ্য সরবরাহ খাতে। বৈরুত বন্দরসংলগ্ন জায়গায় দেশটির একমাত্র সরকারি খাদ্যগুদামটি ছিল। বিস্ফোরণে তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে লেবাননের মজুদ করা খাদ্যশস্যের ৮৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। দেশটির হাতে এখন যে পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুদ আছে তা দিয়ে সর্বোচ্চ এক মাস জনগণের মুখে খাবার তুলে দেয়া সম্ভব হবে।

এ পরিস্থিতিতে লেবাননের জনগণের জরুরি ভিত্তিতে খাদ্যসহায়তার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশসহ অনেক দেশ খাদ্যসহায়তা নিয়ে লেবাননের পাশে দাঁড়িয়েছে। এ সহায়তার অংশ হিসেবে দেশটিতে পারবর্তী এক মাসের মধ্যে ৫০ হাজার টন গমের আটা পাঠাচ্ছে ডব্লিউএফপি।

উল্লেখ্য, লেবাননবাসীর প্রধান খাবার আটা থেকে তৈরি রুটি। এ কারণে দেশটিতে প্রতি মাসে ৩৫-৪০ হাজার টন গম প্রয়োজন হয়। অভ্যন্তরীণ চাহিদা আটা ও গমের বেশির ভাগ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে দেশটি। গত বছর লেবাননে সাকল্যে ১ লাখ ৪০ হাজার টন গম উৎপাদন হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি।