ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বেড়েছে। অন্যান্য দেশের মতো পশ্চিম ইউরোপীয় দেশ জার্মানিতেও এর ছোঁয়া লেগেছে। দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ১৯৫০-এর দশকের তুলনায় বর্তমানে দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে। ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের উচ্চ মূল্য আগামী দুই বছর অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সরকারের একজন উপদেষ্টা।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, চলতি বছরের নভেম্বরে জার্মানিতে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি প্রায় ১১ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এ হার অক্টোবরের ১১ দশমিক ৬ শতাংশের তুলনায় কিছুটা ধীর।
মূল্যস্ফীতি দুই অংক থেকে কমিয়ে আনার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। যদিও এসব পদক্ষেপ প্রত্যাশা পূরণে যথেষ্ট নাও হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে জার্মানির বুন্দেসব্যাংক।
মনিকা স্নিত্জারের বক্তব্য উল্লেখ করে স্থানীয় সংবাদপত্র রেইনিশে পোস্ট জানায়, মূল্যস্ফীতি সমস্যা ২০২৪ সালেও বিদ্যমান থাকবে। এর পরই হয়তো আমরা এটিকে ২ শতাংশে নামতে দেখব।
দেশে বিদ্যুতের দাম নিয়ে উদ্বিগ্নতা সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে মনিকা স্নিত্জার আরো বলেন, সরকারকে এখনই এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। পারমাণবিক তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে পরিকল্পনার চেয়ে দুই বা তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলতে দেয়া অর্থপূর্ণ কিনা সে বিষয়ে এখনই ভাবা উচিত। এখনই দ্রুত জ্বালানির নতুন ক্রয়াদেশ দেয়া উচিত হবে, যা আগামী শীতে আমাদের আরো নিরাপত্তা দেবে।
ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানি চলতি বছরের শেষ নাগাদ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পর্যায়ক্রমে বন্ধের পরিকল্পনা করেছিল। তবে বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে গত অক্টোবরে দেশটির সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর আয়ুষ্কাল আগামী এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যদিও সরকারের কিছু কর্মকর্তা এপ্রিলের পরও এগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম আরো বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।










