ভেনিজুয়েলার জ্বালানি তেল উত্তোলন ও রফতানি খাতে টানা মন্দা ভাব বজায় রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি আগের মাসের তুলনায় ১৪ শতাংশ কমে গেছে। জ্বালানি তেল বহনকারী কার্গো পরিচালনার বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান রেফিনিটিভ এইকনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল উত্তোলক ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান পিডিভিএসএ প্রতিদিন গড়ে ৯ লাখ ৫১ হাজার ৯০৩ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করেছে, যা আগের মাসের তুলনায় ১৪ শতাংশ কম। গত ডিসেম্বরে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন গড়ে ১১ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি হয়েছিল। সেই হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে ভেনিজুয়েলা থেকে জ্বালানি পণ্যটির দৈনিক গড় রফতানি কমেছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭ ব্যারেল।
শুধু আগের মাসের তুলনায় নয়, বরং ২০১৮ সালের জানুয়ারির তুলনায় গত মাসে দেশটি থেকে জ্বালানি তেল রফতানি কমেছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করেছিল ভেনিজুয়েলা।
ভেনিজুয়েলার জ্বালানি তেল খাতের জন্য ২০১৯ সালটি মন্দার বছর ছিল। বছরের শুরুর দিকে দেশটির জ্বালানি তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে একদিকে দেশটির খনিগুলো থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমতে শুরু করে। অন্যদিকে কমে আসে ভেনিজুয়েলা থেকে জ্বালানি পণ্যটির রফতানিও।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ভেনিজুয়েলার প্রধান রফতানি পণ্য। সমাজতান্ত্রিক দেশটির অর্থনীতির মূল ভিত্তি এ খাত। এ কারণে জ্বালানি তেল খাতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা হুমকিতে ফেলে ভেনিজুয়েলার সামগ্রিক অর্থনীতিকে। বেড়ে যায় খাদ্যমূল্য। অসন্তোষ ছড়ায় জনগণের মধ্যে। ছড়িয়ে পড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন। এ পরিস্থিতিতে ভেনিজুয়েলার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর প্রতিদ্বন্দ্বী জুয়ান গুয়াইদোকে দেশটির বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এতে ভেনিজুয়েলাকে ঘিরে বিদ্যমান সংকট আরো জোরালো হয়।
বিদ্যমান সংকট নিরসনের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ এখনো দেখা যায়নি। এর প্রভাব পড়ছে দেশটির জ্বালানি তেল খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নিকোলাস মাদুরোর তিক্ত সম্পর্ক বজায় থাকায় বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা সহসাই উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না জ্বালানি বিশ্লেষকরা। ফলে আগামী দিনগুলোয় ভেনিজুয়েলা থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি বর্তমানের তুলনায় আরো কমে আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।








