কর্মীদের ওপর দীর্ঘ কর্মঘণ্টার প্রভাব কম বেশি নেতিবাচক। অতিরিক্ত কাজের চাপ উৎপাদনশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কিনা তা নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে গবেষণা। এবার পরীক্ষামূলকভাবে কর্মঘণ্টা কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে স্পেন সরকার। শুক্রবার দেশটির সরকার একটি পাইলট পরিকল্পনার কথা জানায়। যার অধীনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা এবং কর্মীদের বেতন না কমিয়ে সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা কমানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। খবর দ্য ন্যাশনাল।

ফিনল্যান্ডে যেমন সপ্তাহে চারদিন কর্মঘণ্টার ইতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে শোনা যায়। কিছুদিন আগে নিউজিল্যান্ডভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান কর্মীদের মধ্যে কাজের উদ্যম বাড়াতে সপ্তাহে কর্মদিবসের সংখ্যা কমিয়ে আনার ঘোষণা দেয়। সে উদ্যোগে শামিল হয় কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে পাঁচদিনের বদলে চারদিন কর্মদিবস চালুর পর দেখা যায় পাইলটিং শেষ হলেও আগের নিয়মে ফেরেনি প্রতিষ্ঠানগুলো। কারণ সপ্তাহে চারদিন অফিসে এসে কর্মীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি উদ্যম নিয়ে কাজ করছেন। তাদের কাজের মান বেড়েছে। বেড়েছে প্রতিষ্ঠানের আয়ও।

স্পেনের শ্রম মন্ত্রণালয় বলেছে, শ্রম সংস্কার করতে আগ্রহী এমন কোম্পানির ওপর আগামী দুই বছর এটি পরীক্ষা চালানো হবে। যেসব কোম্পানি এ পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী শর্ত অনুযায়ী তাদের অবশ্যই এক-তৃতীয়াংশ বা অর্ধেক কর্মীর কর্মঘণ্টা টানা দুই বছর ধরে ১০ শতাংশ কমাতে হবে।

বিনিময়ে কোম্পানিগুলো উৎপাদনের প্রভাব ও অতিরিক্ত প্রশাসনিক খরচ বাবদ ক্ষতিপূরণের জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহায়তা পাবে। প্রকল্পটি গ্রহণ ও কার্যকর করার পর কোম্পানিগুলোর প্রশাসনিক খরচ কম বেশি বাড়াতে পারে—এমনটা মনে করে সহায়তা কার্যক্রম গ্রহণ করার কথা জানায় মন্ত্রণালয়। পাইলট এ প্রকল্প গ্রহণপূর্বক উৎপাদনশীলতার ওপর প্রভাবগুলো মূল্যায়নের ভিত্তিতে সরকার পরবর্তী সময়ে বিবেচনা করবে অর্থনীতির বাকি অংশের জন্য কর্মঘণ্টা হ্রাসের উদ্যোগটি প্রয়োগ করা হবে কিনা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় স্পেনের বেশির ভাগ বড় প্রতিষ্ঠান—যেমন প্রযুক্তি কোম্পানি টেলিফোনিকা ও ফ্যাশন গ্রুপ ডেসিগোয়াল—সপ্তাহে চারদিন কর্মঘণ্টা চালু করে। তবে কর্মঘণ্টা হ্রাসের সঙ্গে মজুরি সমন্বয় বা কিছু ক্ষেত্রে তা কমানো হয়। সব মিলিয়ে কর্মঘণ্টা হ্রাসের বিষয়টি অনেকটা সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বিষয়টির পক্ষে থাকলেও প্রতিষ্ঠানের পরিচালকরা খানিকটা বিরোধিতা করছেন। কেননা তারা মনে করছেন, অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের জন্য এটির প্রয়োগ খানিকটা কঠিন হতে পারে।