২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো প্রাকৃতিক গ্যাসের নিট রফতানিকারকে (আমদানির চেয়ে রফতানি বেশি) পরিণত হয়। এরপর যত দিন যাচ্ছে, দেশটি থেকে জ্বালানি পণ্যটির রফতানি ততই বাড়ছে। এ ধারাবাহিকতায় বিদায়ী বছর দেশটি থেকে পণ্যটির রফতানি দাঁড়িয়েছিল দৈনিক গড়ে ৫৩০ কোটি ঘনফুট। ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) সম্প্রতি জানিয়েছে, ২০২১ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্যটির নিট রফতানি প্রায় দ্বিগুণ বাড়তে পারে। খবর ওয়ার্ল্ড অয়েল।

ইআইএর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের নিট প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি বেড়ে দৈনিক গড়ে ৭৩০ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হতে পারে, আগের বছরের তুলনায় যা ২০০ কোটি ঘনফুট বেশি। এদিকে আগামী বছর দেশটি থেকে পণ্যটির নিট রফতানি আরো বেড়ে ৮৯০ কোটি ঘনফুটের রেকর্ড ছুঁতে পারে, যা ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। মূলত দেশটি থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) রফতানি বৃদ্ধি এর পেছনে প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া মেক্সিকোয় পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাসের রফতানি বাড়ায় এ সময় দেশটি থেকে পণ্যটির সামগ্রিক রফতানি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে ইআইএ।

পাইপলাইনে মূলত কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসের বাণিজ্য করে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি সাধারণত পাইপলাইনে কানাডা থেকে রফতানির তুলনায় পণ্যটির আমদানি বেশি করে। তবে মেক্সিকোয় আমদানির তুলনায় প্রাকৃতিক গ্যাসের রফতানি বেশি করে দেশটি। এছাড়া বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি বাণিজ্য সংঘটিত হয়। ২০১৬ সাল থেকে দেশটি এলএনজির নিট রফতানিকারকে পরিণত হয়েছে। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত রাখতে চলতি বছর দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাস খাতে নতুন কিছু সুযোগসুবিধা যুক্ত হতে পারে। এছাড়া এলএনজির উৎপাদন ও রফতানি বাড়াতে এ বছর প্রাকৃতিক গ্যাসের কয়েকটি তরলীকরণ ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।