পৃথককরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্যাস ও হার্ড গুডস ব্যবসা পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জ্বালানি খাতের বহুজাতিক কোম্পানি লিন্ডে বাংলাদেশ লিমিটেড। কোম্পানি আইনের বিধান অনুসারে হাইকোর্টে উপস্থাপনের জন্য একটি খসড়া পরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে কোম্পানিটি। পাশাপাশি সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৪২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল অনুষ্ঠিত সভায় এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে লিন্ডে বাংলাদেশের পর্ষদ।
তথ্যানুসারে, উচ্চ আদালতের পাশাপাশি ব্যবসা পৃথককরণ প্রক্রিয়ার বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিশেষ সাধারণ সভার (ইজিএম) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নেবে কোম্পানিটি। উচ্চ আদালতের অনুমোদন পাওয়ার পর কোম্পানিটির হার্ড গুডস ব্যবসা পূর্ণ মালিকানাধীন সাবসিডিয়ারির মাধ্যমে পরিচালিত হবে এবং এতে কোম্পানির পণ্যে বৈচিত্র্য আসবে বলে জানানো হয়েছে।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে লিন্ডে বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫৮ টাকা ৪ পয়সা। যেখানে আগের হিসাব বছরে ইপিএস ছিল ৮০ টাকা ৫৫ পয়সায়। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ইপিএস কমেছে প্রায় ২৮ শতাংশ। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৯৭ টাকা ৪৪ পয়সায়। ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে এ বছরের ১১ মে বেলা ১১টায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। একই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় ইজিএম করবে কোম্পানিটি। এজিএম ও ইজিএমের রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২ এপ্রিল।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ৫৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে লিন্ডে বাংলাদেশ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৮০ টাকা ৫৫ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭০ টাকা ৫৫ পয়সা। সে হিসাবে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে ১০ টাকা বা ১৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৩৯৫ টাকা ৫৫ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৪০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল লিন্ডে বাংলাদেশ। তার আগের হিসাব বছরের জন্য ৫০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। বর্তমান লিন্ডে বাংলাদেশ ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ অক্সিজেন কোম্পানি নামে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এর অনুমোদিত মূলধন ২০ কোটি টাকা। বর্তমানে পরিশোধিত মূলধন ১৫ কোটি ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৫৮৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৫২ লাখ ১৮ হাজার ৩০০। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৮ দশমিক ৮০ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১১ দশমিক ২০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ১ হাজার ৩৯৭ টাকা ৭০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটি ১ হাজার ৩৬৬ টাকা ১০ পয়সা থেকে ১ হাজার ৬৩৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে।










