কভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে বিশ্বজুড়ে ন্যাচারাল ফুডের চাহিদা বেড়েছে। এর জের ধরে নিউজিল্যান্ডের মধু শিল্পে ব্যাপক উত্থান দেখা দিয়েছে। দেশটি থেকে মধু ও মধু থেকে উৎপাদিত পণ্যের রফতানি রেকর্ড বেড়েছে।
এপিকালচার নিউজিল্যান্ড সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। খবর সিনহুয়া।
অবশ্য নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের আগে থেকেই কয়েক বছর ধরে নিউজিল্যান্ডের মধু শিল্প বিশ্বজুড়ে ক্রমেই প্রসিদ্ধ হয়ে উঠছিল। মহামারীর পর তা আরো বেড়েছে। এপিকালচার নিউজিল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী কারিন কোস বলেন, কয়েক বছর ধরে বিশ্বব্যাপী ন্যাচারাল ফুড নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে। মহামারীর প্রাদুর্ভাবের সময়ে এ বিষয়ে মানুষ আরো মনোযোগী হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতি ভোক্তাদের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের মধু ও মধুজাতীয় পণ্য জনপ্রিয় করে তুলেছে।
নিউজিল্যান্ডের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে মে মাস পর্যন্ত দেশটি সব মিলিয়ে ৪১ কোটি ৩০ লাখ নিউজিল্যান্ড ডলার সমমূল্যের মধু ও মধুপণ্য রফতানি করেছে, ১০ বছর আগের তুলনায় যা চার গুণেরও বেশি। এরই মধ্যে মে মাসে রফতানি করেছে মোট ৪ কোটি ৯০ লাখ নিউজিল্যান্ড ডলার সমমূল্যের মধু, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১ কোটি ৭০ লাখ নিউজিল্যান্ড ডলার বা ৫৩ শতাংশ বেশি।
এ বিষয়ে কারিন কোস আরো বলেন, অপ্রত্যাশিকভাবে মধু রফতানি বেড়ে যাওয়ায় আমরা সত্যি খুব অবাক হয়েছি। তবে নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে ন্যাচারাল ফুডের চাহিদা বাড়িয়েছে, যা পণ্যটির রফতানি বৃদ্ধির মূল কারণ। তবে মহামারীর আগে ১০ বছর ধরে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বাজারে নিউজিল্যান্ডে উৎপাদিত মধুর বেশ চাহিদা রয়েছে। বিশেষত নিউজিল্যান্ড থেকে পণ্যটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রফতানি বাজার চীন। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশটি থেকে রফতানি হওয়া মোট মধুর ৪০ শতাংশের গন্তব্য ছিল চীন।
নিউজিল্যান্ডের জন কিন নামের একজন মধু খামারী বলেন, আমি ২০ বছর ধরে মধু খামারের সঙ্গে যুক্ত। এ সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, চীন ও জাপানের বাজারে নিউজিল্যান্ড থেকে রফাতানি হওয়া উন্নত মানের মধু ও মধুজাত পণ্য জনপ্রিয়তার ক্রমপ্রবৃদ্ধির সাক্ষী আমি। যদিও করোনা মহামারীর শুরুর দিকে মধু ব্যবসা মারাত্মক হুমিকর মুখে পড়েছিল। তবে বর্তমানে তা কাটিয়ে উঠে পণ্যটির ব্যবসা সম্প্রসারণে ডিজিটাল বিপণনে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
কভিড-১৯-পরবর্তী সময়ে নিউজিল্যান্ড থেকে মধু রফতানি আরো বাড়তে পারে বলে প্রত্যাশা করেন এপিকালচার নিউজিল্যান্ড। কারিন কোস বলেন, মহামারী-পরবর্তী সময়ে কীভাবে ফিট থাকা যায় এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে ভোক্তারা আরো বেশি সচেতন হয়ে উঠবে। তখন বিশ্ববাজারে তাদের পণ্যগুলোর চাহিদা আরো বাড়তে পারে।
মহামারী প্রাদুর্ভাবের প্রথম দিকে মধু উৎপাদন নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছিল নিউজিল্যান্ডের খাতসংশ্লিষ্টদের। কারিন কোস বলেন, মধু মৌসুমভিত্তিক পণ্য। নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের প্রথম দিকে দেশজুড়ে লকডাউন আরোপ হওয়ায় পণ্যটির উৎপাদন ব্যহত হয়, যা ছিল শীর্ষ উৎপাদন মৌসুম। তবে প্রাণঘাতী ভাইরাসটির সংক্রমণ সফলভাবে কাটিয়ে উঠেছে নিউজিল্যান্ড। এরপর দেশটির শিল্প ও আর্থিক খাতগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যক্রমে ফিরেছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে পণ্যটির চাহিদার সঙ্গে উৎপাদনও বেড়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডের মধু রফতানিতে প্রবৃদ্ধির ধারা আগামীতে অব্যাহত থাকতে পারে। কেননা দেশটিতে উৎপাদিত মধু আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির জন্য সব ধরনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এবং সর্বোচ্চ মানের নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। ফলে ভোক্তরা নিউজিল্যান্ডে উৎপাদিত মধুর ওপর আস্থা রাখতে পারবে।










