শুধু নীতি সুদহার কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ব্যাংকিং অ্যালমানাকের সপ্তম সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের মূল্যস্ফীতি গত দুই মাস বাড়তির দিকে রয়েছে। এর পেছনে সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে।’

ব্যাংকিং অ্যালমানাকের বোর্ড অব এডিটরসের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউনস ডিভিশনের সচিব মিসেস নাজমা মোবারেক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার।

অনুষ্ঠানে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সুদের হার কমানো অত্যন্ত জটিল কাজ। কারণ এটি সরকারি ঋণপত্রের হারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ট্রেজারি বিলের সুদহার কমেছে। এর প্রভাব সুদহারে পড়বে। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়ে এসেছে। দেশের উন্নয়ন কারো একক কৃতিত্ব নয়। অর্থনৈতিক উন্নয়ন সব সময় পুঞ্জীভূত। এটা ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলাফল।’

তিনি আরো বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবণতা এবং পণ্য মজুদ করার কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়, যা কেবল প্রশাসনিক তদারকি দিয়ে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সুতরাং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

বাংলাদেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর থেকে জোড়া লাগিয়ে শক্তিশালীর দিকে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এখন দেশের অর্থনীতি মোটামুটি, তবে এটা গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির মাধ্যমে অনেক দেশ এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশকেও এ পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া অর্থনীতির মাত্রা যাচাইয়ে তথ্যের গুণগতমান, পেশাদারত্ব, সুশাসনের নিয়মাবলি, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা—এ পাঁচটি দিক পর্যালোচনা করা দরকার।’

মানুষের অর্থনৈতিক সামর্থ্য বাড়াতে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির চাকা ঘোরান উদ্যোক্তারা। শুধু বড় উদ্যোক্তা নয়, গ্রামের কৃষকরা এতে বড় ভূমিকা রাখেন। তাদের আস্থা বড় একটা বিষয়। এ বিষয়ে পরবর্তী সরকারকে কাজ করতে হবে। এতে বড় বিষয় মূল্যস্ফীতি। এতে নীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক শাসন ব্যবস্থা কী হবে, এটা গুরুত্বপূর্ণ।

কোন খাতে কী ধরনের গ্যাপ বা সমস্যা রয়েছে, তা বোঝার জন্য সার্বক্ষণিক মনিটরিং প্রয়োজন বলে জানান হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে নিবিড় পর্যবেক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। সময়মতো নজরদারি না করলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।’

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ব্যাংকিং অ্যালমানাক বইয়ের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ জিয়াউদ্দিন আহমেদ, বইটির সম্পাদনা পরিষদের সদস্য ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন, ব্যাংকিং অ্যালমানাকের নির্বাহী সম্পাদক মোহাম্মদ এমদাদুল হক, প্রকল্প পরিচালক আবদার রহমান।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় শিক্ষাবিষয়ক সাপ্তাহিক পত্রিকা শিক্ষাবিচিত্রার উদ্যোগে ২০১৬ সাল থেকে ‘ব্যাংকিং অ্যালমানাক’ গবেষণা গ্রন্থটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর একটি মোড়কে বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি, সেবা এবং কর্মদক্ষতা সূচকের সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত সর্বসাধারণের সম্মুখে তুলে ধরা হয়।