রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সরাসরি প্রচার করে ব্রিটিশ টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ইতিহাসে সর্বোচ্চ টিআরপি পাবে। স্মারক সংখ্যার জন্য সংবাদপত্রের বিক্রিও হচ্ছে অভূতপূর্ব। তবে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই জাতীয় ঘটনা থেকে আর্থিক কোনো সুবিধা পাচ্ছে না যুক্তরাজ্যের প্রচারমাধ্যমগুলো। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

আইটিভি বা চ্যানেল ফোরের মতো চ্যানেলগুলো নিজেদের ইতিহাসে বড় সরাসরি সম্প্রচারটি করতে যাচ্ছে। এ ছাড়া বিবিসির ফ্ল্যাগশিপ চ্যানেল বিবিসি ওয়ান, বিবিসি টু, স্কাই ও চ্যানেল ফাইভ প্রচারে শামিল হবে। কিন্তু ব্যয়বহুল সম্প্রচার করে রেকর্ড দর্শক পেলেও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে চ্যানেলগুলো।

যুক্তরাজ্যে জাতীয় ঘটনার মধ্যে এতদিন টিআরপি দৌড়ে এগিয়ে ছিল ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল জয় ও ১৯৯৭ সালের ডায়ানার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। দুটো উপলক্ষকেই ছাড়িয়ে যাবে সোমবারের সম্প্রচার।

বিশেষ ছুটির কারণে এদিন দেশটির বেশির ভাগ মানুষই টিভির সামনে থাকবেন। মাল্টিমিডিয়া ম্যাগাজিন হিটের এন্টারটেইনমেন্ট ডিরেক্টর বয়েড হিলটনের ভাষ্যে, দর্শক সংখ্যা বিপুল না হওয়ার কোনো কারণ নেই। আয়োজনের চূড়ান্ত মুহূর্তে রেকর্ড সংখ্যক দর্শক টিভি দেখবেন।

রানীর মৃত্যুর দিনই দর্শকের সংখ্যা শীর্ষে ছিল। ওই দিন ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বিবিসি দেখেছে বলে একটি সংস্থা জানিয়েছে। যা অন্য যেকোনো পিক আওয়ারের চেয়ে অনেক বেশি।

এক্স ফ্যাক্টর বা খেলার মতো জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন প্রচারে বড় অঙ্কের অর্থ নেয় চ্যানেলগুলো। কিন্তু বাকিংহাম প্রাসাদের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে, রানীর মৃত্যুর পর বেশিরভাগ টিভি চ্যানেলই ছিল সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপনমুক্ত। এর সঙ্গে একাত্ম হয়েছিল সংবাদপত্র, রেডিও স্টেশনসহ স্ন্যাপচ্যাট ও টুইটারের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং আউটডোর বিজ্ঞাপন জায়ান্টগুলো। মাঝে কয়েক দিন চালু থাকলেও শেষকৃত্যের জন্য সোমবার ফের বিজ্ঞাপনমুক্ত থাকছে মিডিয়াগুলো।

রানীর মৃত্যুর পর প্রতিবেদন, স্মৃতিচারণ, বিশ্লেষণ প্রকাশের জন্য সংবাদপত্রের চাহিদা বেড়ে যায়। স্মরণকালে পত্রিকা মালিকরা এত চাহিদা কখনো দেখেননি। আগামীকাল মঙ্গলবারও সংবাদপত্রের চাহিদা তুঙ্গে থাকবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রানীর মৃত্যুর পর পত্রিকার ছাপা বাড়ায় ব্যয়ও বেড়েছে, কিন্তু সে অনুসারে তাদের কোনো আয় হয়নি।