জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত নতুন গাড়ি বিক্রি বন্ধে চুক্তিতে পৌঁছেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সম্প্রতি সদস্য দেশ ও ইইউর আইনপ্রণেতারা এ চুক্তি সম্পাদন করেছে। ফলে ২০৩৫ সালের পরে ২৭ দেশের জোটটিতে গ্যাসোলিন ও ডিজেলচালিত নতুন গাড়ি এবং ভ্যান বিক্রি নিষিদ্ধ।

এপির খবর অনুসারে, চলতি দশকে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ৫৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যে ইইউ ‘ফিট ফর ৫৫’ নামে প্যাকেজ উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগের প্রথম চুক্তি হলো জীবাশ্ম জ্বালানির গাড়ি বিক্রি বন্ধ করা। চুক্তির অধীনে গাড়ি নির্মাতাদের ২০২১ সালের তুলনায় ২০৩০ সালে বিক্রি হওয়া নতুন গাড়ির নিঃসরণ ৫৫ শতাংশ কমাতে হবে এবং ২০৩৫ সাল নাগাদ শতভাগ কমাতে হবে।

চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও সদস্য দেশগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করতে হবে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বলেছে, চুক্তিটি জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের আগে একটি সংকেত যে, কার্বন নিঃসরণ কমাতে ইইউ বদ্ধপরিকর। ইইউর তথ্য অনুযায়ী, পরিবহনই একমাত্র খাত যেখানে গত তিন দশকে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ বেড়েছে। ১৯৯০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে নিঃসরণ ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। জোটটিতে যাত্রীবাহী গাড়ি প্রধান দূষণকারী। সড়ক পরিবহন থেকে মোট কার্বন নিঃসরণের ৬১ শতাংশের জন্য দায়ী যাত্রীবাহী গাড়ি।

ইইউ ২০৫০ সালের মধ্যে পরিবহন থেকে নিঃসরণ ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনতে এবং বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির প্রচার চালাতে চায়। তবে ব্লকের বাহ্যিক নিরীক্ষকের একটি প্রতিবেদন গত বছর দেখিয়েছে যে, এ অঞ্চলে উপযুক্ত চার্জিং স্টেশনের অভাব রয়েছে। ইইউ পার্লামেন্ট বলেছে, জীবাশ্ম জ্বালানি চালিত গাড়ি বিক্রি বন্ধের কারণে অনেকে কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। এজন্য অটোমোবাইল সরবরাহ ব্যবস্থার ছোট ও মাঝারি আকারের ব্যবসা এবং দুর্বল অঞ্চল ও সম্প্রদায়গুলোকে সহায়তা করার জন্য তহবিল গঠন করা উচিত।

বিশ্বনেতারা ২০১৫ সালে প্যারিসে বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ এবং শতাব্দীর শেষ নাগাদ এটি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদিও বিজ্ঞানীরা বলছেন, কার্বন নিঃসরণ কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব নয়।

ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের পরিবেশ কমিটির চেয়ারম্যান প্যাসকেল ক্যানফিন বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। প্রথমবারের মতো আমরা সুস্পষ্ট ডিকার্বোনাইজেশনের পথ নির্ধারণ করতে পেরেছি। ২০২৫, ২০৩০ ও ২০৩৫ লক্ষ্যমাত্রা পূরণের মাধ্যমে ২০৫০ সালের মধ্যে আমরা কার্বন নিরপেক্ষতার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব। বর্তমানে ব্লকের ১৬ শতাংশ কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী পরিবহন খাত ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।