২০২৩ সালের শেষ প্রান্তিকে প্রাকৃতিক গ্যাস খাতের জায়ান্ট বিপির আয় পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রান্তিকটিতে প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি। তবে ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে কোম্পানিটির আয়। এর কারণ হিসেবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। খবর এপি।
লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিপি সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আগের প্রান্তিকের ৩৩০ কোটি ডলারের তুলনায় সর্বশেষ প্রান্তিকে আয় কমেছে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটির মোট মুনাফা ছিল ২ হাজার ৭৭০ কোটি ডলার, যা ২০২৩ সালে ১ হাজার ৩৮০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম অনেক বেড়েছে। ফলে চাহিদা নিম্নমুখী হয়েছে।
বিষয়টি মূল্যস্ফীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর। ইউটিলিটি বিল আগের তুলনায় অনেক বাড়ায় গ্রাহকদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এতে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে জ্বালানি সংস্থাগুলোকে।
দুর্বল বৈশ্বিক অর্থনীতির কারণে বিদ্যুতের দাম কমে গেছে। গাড়ি, উড়োজাহাজ, কারখানা ও আরো অনেক কিছুতে জীবাশ্ম জ্বালানির চাহিদা কমছে। ফলে শেল ও এক্সন মবিলের মতো অন্যান্য প্রধান জ্বালানি তেলের সংস্থাগুলোর আয় কমেছে।
বার্ষিক আয় কমে যাওয়া সত্ত্বেও বিপির মুনাফা স্থির আছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা আরো ১৭৫ কোটি ডলার মূল্যের শেয়ার কিনবে এবং সেই সঙ্গে চলতি বছরের প্রথমার্ধে ৩৫০ কোটি ডলারের অতিরিক্ত শেয়ার বাইব্যাক করতে চায়। সকালের লেনদেনে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারমূল্য ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির সিইও মারে অচিনক্লাস বলেন, ‘২০২৩ সাল ছিল অপারেশনাল পারফরম্যান্সের বছর, আমাদের কৌশল নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।’
পরিবেশবাদী ও অন্য গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, বিপির মতো জ্বালানি জায়ান্টরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করবে।
ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসির গবেষক জোসেফ ইভান্স বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে বিপি ও অন্যান্য জীবাশ্ম-জ্বালানি জায়ান্টগুলোকে সবুজ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তারা সর্বদা তাদের শেয়ারহোল্ডারদের অর্থনীতি ও গ্রাহকদের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেবে। তবে বিপি ও শেলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ২০৫০ সালের মধ্যে নেট শূন্য কার্বন নিঃসরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ইন্টারেক্টিভ বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারের প্রধান রিচার্ড হান্টার বলেন, ‘অনেক প্রতিষ্ঠানের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে পুরোপুরি রূপান্তর হওয়ার জন্য অনেক প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে হবে।’
বিপির অধীনস্থ সৌর ও ব্যাটারি স্টোরেজ কোম্পানি লাইটসোর্স বিপিকে অধিগ্রহণের জন্য একটি চুক্তিতে যেতে পারে। এছাড়া আগামী বছরগুলোয় স্পেন ও পর্তুগালে আরো ইভি চার্জার চালুর যৌথ উদ্যোগ নিতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি গত বছরের শেষের দিকে উত্তর সাগরে একটি তেল ও গ্যাস প্রকল্পের চালুরও ঘোষণা দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতিদিন ১৫ হাজার ব্যারেল বা এর সমতুল্য জ্বালানি তেল উত্তোলন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।










