খরচ কমানোর অংশ হিসেবে এবার কর্মী ছাঁটাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে এইচএসবিসি। ব্রিটিশ বহুজাতিক ব্যাংকটি বিশ্বজুড়ে দুই শতাধিক জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপককে অব্যাহতি দিচ্ছে। বিশ্বজুড়ে ব্যাংকটির দুই হাজার জ্যেষ্ঠ অপারেশন ব্যবস্থাপকের মধ্যে ১৫ শতাংশ ছাঁটাইয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। বিষয়টিতে যুক্ত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।

লন্ডনভিত্তিক ব্যাংকটির বেশ কয়েকটি ব্যাংকিং ইউনিট এবং বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা শাখার অন্তত ২০০ জ্যেষ্ঠ কর্মী চাকরি হারাবেন। ছাঁটাইয়ের মুখোমুখি হওয়া বেশির ভাগই প্রধান অপারেটিং অফিসার (সিওও) পদে কর্মরত। এইচএসবিসি নিজেকে বিশ্বের স্থানীয় ব্যাংক হিসেবে পরিচিত করতে চেয়েছিল। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি দেশ ও ব্যবসায়িক ইউনিটে পৃথক সিওও নিয়োগ দিয়েছিল। যদিও কর্মী ছাঁটাই নিয়ে ব্যাংকটি রয়টার্সের অনুরোধে কোনো মন্তব্য জানায়নি।

ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটি কয়েক বছর ধরে বিস্তৃত বৈশ্বিক কার্যক্রম সংকুচিত করে চলেছে। অনেক অঞ্চলে ব্যবসা ছোট এবং কিছু দেশ থেকে সম্পূর্ণভাবে বেরিয়ে যাচ্ছে ব্যাংকটি। মূলত শেয়ারহোল্ডারদের চাপের মুখে ব্যবসা আরো লাভজনক করতে চাইছে এইচএসবিসি। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে কয়েক বছর ধরে ব্যাংকটি পশ্চিমের স্বল্প লাভজনক ব্যবসা গুটিয়ে এশিয়ার অধিক লাভজনক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবসায় মনোযোগ বাড়াচ্ছে। নভেম্বরের শেষ দিকে সংস্থাটি কানাডীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম বিক্রির ঘোষণা দেয়। ১ হাজার কোটি ডলারে কানাডার বৃহত্তম ব্যাংক রয়েল ব্যাংক অব কানাডার কাছে এ ব্যবসা বিক্রি করা হচ্ছে। ব্যাংক দুটির মধ্যে এ সম্পর্কিত চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে। চুক্তির আওতায় ১৩০টিরও বেশি শাখা ও ৭ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এরপর গত বুধবার সংস্থাটির নিউজিল্যান্ডের ব্যাংকিং কার্যক্রম বিক্রি এবং যুক্তরাজ্যের ১১৪টি শাখা বন্ধ করার পরিকল্পনা সংবাদমাধ্যমে আসে। যুক্তরাজ্যে এর আগে গত মার্চে ব্যাংকটি ৬৯টি শাখা এবং গত বছর আরো ৮২টি শাখা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। পাশাপাশি গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের খুচরা ব্যাংকিং কার্যক্রম থেকে বেরিয়ে এসেছিল ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংকটি।

একটি সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে সর্বশেষ কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নোয়েল কুইন বলেন, এইচএসবিসি আগামী বছর ১৭০ কোটি ডলার অতিরিক্ত ব্যয় কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ সত্ত্বেও সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধির হার ২ শতাংশে সীমাবদ্ধ করতে চাইছে প্রতিষ্ঠাটি।

চলতি বছর ব্যাংকটির স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সংস্থাটির কর্মীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭৮ জন বেড়ে ২ লাখ ২০ হাজার ৭৫-এ দাঁড়িয়েছে। ব্রিটিশ ব্যাংকটির বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিং অ্যান ইন্স্যুরেন্স চাপ দিয়ে যাচ্ছে। ফলে এশিয়ায় ব্যবসা বিস্তৃত করাসহ রিটার্ন বাড়ানোর বিকল্প অন্বেষণ করা হচ্ছে। গত মাসে পিং অ্যান ইন্স্যুরেন্সের মালিকানাধীন ইউনিট পিং অ্যান অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট এইচএসবিসিকে কর্মী কমিয়ে এবং এশিয়ার বাইরে ব্যবসায়িক কার্যক্রম কাটছাঁট করে আগ্রাসীভাবে খরচ কমানোর অনুরোধ জানিয়েছিল। সে সময় পিং অ্যান বলেছিল, এইচএসবিসির কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে সদর দপ্তরগুলোর খরচ কমানোর দিকেও নজর দেয়া উচিত।

গত সেপ্টেম্বরে একটি প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছিল, ব্যাংকটি রিয়েল এস্টেট সম্পত্তি বিক্রির বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। লন্ডনের ক্যানারি ওয়ার্ফে থাকা আইকনিক আকাশচুম্বী ভবন থেকে এইচএসবিসি কার্যক্রম স্থানান্তর করতে পারে। একটি সূত্র জানিয়েছে, এইচএসবিসির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্মীদের কাছে ছাঁটাইয়ের বিষয়টি পরিষ্কার করারও পরিকল্পনা করছে। ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ এবং কঠিন বাজার পরিস্থিতিতে মুনাফা বাড়াতে বিস্তৃত কৌশলের অংশ হিসেবে কর্মী কমানো হচ্ছে বলে ঘোষণা দেবে ব্যাংকটি।