বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত শস্যের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চাল। খাদ্যপণ্যটির উৎপাদনে এশিয়ার দেশগুলোর জয়জয়কার। তবে এশিয়ার পাশাপাশি আফ্রিকার দেশগুলোতেও চালের ব্যবহার বেশি হয়। চাল রফতানিতে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে শীর্ষ তালিকায় উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশ রয়েছে। তবে খাদ্যপণ্যটির আমদানিতে আফ্রিকার প্রাধান্য বেশি। গত বছর বিশ্বজুড়ে চালের শীর্ষ ১০ উৎপাদনকারী, রফতানি ও আমদানিকারক দেশ নিয়ে এবারের ধারাবাহিক আয়োজন—
চীন
বিশ্বের বুকে সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদন হয় চীনে। টানা দুই বছর ধরে দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন ক্রমান্বয়ে কমতির দিকে রয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় গত বছর চীনে সব মিলিয়ে ১৪ কোটি ৬৭ লাখ ৩০ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ১৯ শতাংশ কম। এর আগের বছর দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির সম্মিলিত উৎপাদন দাঁড়িয়েছিল ১৪ কোটি ৮৪ লাখ ৯০ হাজার টনে, যা আগের বছরের তুলনায় দশমিক ২৬ শতাংশ কম। ২০১১ সালের পর থেকে চীনে চাল উৎপাদন কখনই ১৪ কোটি টনের নিচে নামেনি। এর মধ্যে ২০১৭ সালে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছিল। ওই বছর চীনে সব মিলিয়ে ১৪ কোটি ৮৮ লাখ ৭৩ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়।

ভারত
গত বছর চাল উৎপাদনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ভারত। এ সময় দেশটিতে সব মিলিয়ে ১১ কোটি ৭৯ লাখ ৩৯ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি। ভারতের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদনের রেকর্ড। ২০১৮ সালে দেশটিতে আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়ে মোট ১১ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছিল। টানা চার বছর ধরে দেশটির চাল উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে এবং ২০১৭ সালের পর থেকে দেশটি প্রতি বছরই ১১ কোটি টনের বেশি চাল উৎপাদন করে আসছে।
বাংলাদেশ
বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ চাল উৎপাদনকারী দেশ। পরপর দুই বছর দেশে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন বাড়তির দিকে ছিল। এ ধারাবাহিকতায় গত বছর সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি। মূলত বোরোর বাম্পার ফলন গত বছর চাল উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। দেশের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদনের রেকর্ড। ২০১৮ সালে দেশে সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৯ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। ২০০৮ সালের পর থেকে প্রতি বছরই দেশে তিন কোটি টনের বেশি চাল উৎপাদন হয়ে আসছে। এর মধ্যে গত বছর প্রথমবারের মতো খাদ্যপণ্যটির সম্মিলিত উৎপাদনের পরিমাণ সাড়ে তিন কোটি টনের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে।
ইন্দোনেশিয়া
বছরজুড়ে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টন চাল উৎপাদনের মধ্য দিয়ে ২০১৯ সালে খাদ্যপণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদনকারীদের শীর্ষ তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। এ সময় দেশটিতে চাল উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ কমেছে। ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ায় সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৪২ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ কম। এর মধ্য দিয়ে পরপর দুই বছর দেশটিতে চাল উৎপাদনে মন্দা ভাব বজায় রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসে ২০১৭ সালে সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছিল। ওই বছর দেশটিতে সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৭০ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি।

ভিয়েতনাম
ভিয়েতনাম বিশ্বের পঞ্চম শীর্ষ চাল উৎপাদনকারী দেশ। গত বছর দেশটিতে সব মিলিয়ে ২ কোটি ৭৩ লাখ ৬৯ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। ২০১৮ সালে দেশটিতে আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ১৩ শতাংশ কমে মোট ২ কোটি ৭৩ লাখ ৪৪ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছিল। ভিয়েতনামের ইতিহাসে ২০১৭ সালে সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছিল। ওই বছর দেশটিতে সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৫৭ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি। (চলবে)
ইউএসডিএ ও এগ্রিমানি