বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণবাজার ভারত। দেশটিতে রয়েছে মূল্যবান ধাতুটির গভীর সাংস্কৃতিক ও আর্থিক গুরুত্ব। তবে গত বছর স্বর্ণের দাম ৪৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বার্ষিক উত্থান হওয়ায় ক্রেতারা গহনা থেকে সরে ছোট আকারের কয়েন ও বার কেনার দিকে ঝুঁকছেন। খবর রয়টার্স।

মুম্বাইয়ের প্রাচী কাদাম নামের এক গৃহিণী বলেন, ‘গহনা অনুষ্ঠানে পরা যায়। কিন্তু এর মেকিং চার্জ হিসেবে অতিরিক্ত প্রায় ১৫ শতাংশ দিতে হলে তা ন্যায্য মনে হয় না। তাই এবার গহনার বদলে আমি কিনেছি ১০ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণমুদ্রা।’

নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রের সুদহার কমানো ও ডলারের বিনিময় হার কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে গত বছর স্বর্ণের দাম ৬৭ শতাংশ বেড়েছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে তা বৃদ্ধির হার ছিল ৭৭ শতাংশ। ডলারের বিপরীতে রুপির বিনিময় হার প্রায় ৫ শতাংশ হ্রাসও মূল্যবান ধাতুটির দামের ঊর্ধ্বগতির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

বিশ্লেষকরা জানান, বিশ্ববাজারেও স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে অলংকার কেনার গতি শ্লথ হয়ে এসেছে। তবে গহনার বদলে বিনিয়োগযোগ্য স্বর্ণে ঝোঁক সামগ্রিক চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব কিছুটা প্রশমিত করছে। এ ধারা ২০২৬ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

তবে অনেকের ক্ষেত্রে এর অর্থ গহনা পুরোপুরি বাদ দেয়া নয়। বরং কম ওজনের নকশার দিকে ঝোঁকা। ভারতের পিএন গাডগিল জুয়েলার্সের চেয়ারম্যান সৌরভ গাডগিল জানান, দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতারা নকশা ও মূল্যের ব্যাপারে আরো সচেতন হয়ে উঠছেন। এ বাস্তবতায় প্রতিষ্ঠানটি জুনে হালকা ও কম ক্যারেটের গহনা নিয়ে নতুন একটি সাব-ব্র্যান্ড চালু করেছে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডব্লিউজিসি) তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে ভারতে মোট স্বর্ণের চাহিদা আগের বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ কমেছে। এ সময় গহনার ব্যবহার ২৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২৭৮ টনে। বিপরীতে বিনিয়োগ চাহিদা ১৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৮৫ টন। এ সময় মোট চাহিদার ৪০ শতাংশই এসেছে বিনিয়োগ থেকে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ।

ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (আইবিজেএ) সভাপতি পৃথ্বীরাজ কোঠারি বলেন, ‘অনেক ক্রেতাই ধরে নিচ্ছেন, স্বর্ণের এ ঊর্ধ্বমুখিতা অব্যাহত থাকবে। তাই তারা কয়েন, বার কিংবা গোল্ড ইটিএফের মাধ্যমে স্বর্ণ কিনছেন।’