বিশ্বে অন্যান্য অঞ্চলের মতো ইউরোপেও এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলমান। তবে এ রূপান্তরে তেমন একটা লাভবান হতে পারছেন না মহাদেশটির স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বাস্তবায়নে সমস্যায় পড়েছে অঞ্চলটি। চীন থেকে সাশ্রয়ীমূল্যে সোলার প্যানেল আমদানির কারণে ব্যবসা হারানোর অভিযোগ তুলছে খাতটির ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো। খবর রয়টার্স।
গ্রিন এনার্জি বা নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির দিক থেকে ২০২৩ ছিল ইউরোপের জন্য সফল বছর। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো রেকর্ড সর্বোচ্চ সোলার প্যানেল ক্রয় ও ব্যবহার করেছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি।
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) তথ্যানুযায়ী, সোলার প্যানেল স্থাপনে যেসব যন্ত্রাংশ ব্যবহার হয়, তার সিংহভাগ চীন থেকে আসে। কোনো সময় এ আমদানিনির্ভরতা দাঁড়ায় ৯৫ শতাংশেরও বেশি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের বর্ধিত চাহিদা ইউরোপের সোলার প্যানেল উৎপাদনকারীদের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে নিয়ে যেতে পারেনি। স্বল্প খরচে আমদানি ও পণ্যের মজুদ থাকায় কোম্পানিগুলো লোকসানের মধ্যে রয়েছে। উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া কোম্পানির সংখ্যা বাড়ছে।
এ খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইউরোপীয় অঞ্চলের সরকারগুলো যদি এখনই পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অর্ধেকের বেশি উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। নীতিনির্ধারকরাও উদ্যোগ নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহী, কিন্তু এর শুরুর বিষয়ে ভিন্নমত বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নভেম্বরে ইউরোপিয়ান কমিশনের কাছে এক চিঠিতে জার্মানির অর্থমন্ত্রী রবার্ট হাবেক জানান, ইইউর নির্বাহীরা শিগগিরই হয়তো চীন থেকে সোলার প্যানেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। চিঠিতে রবার্ট বলেন, ‘আমি শুনেছি কমিশন চীন থেকে ফটোভোল্টালিক (পিভি) মডিউল আমদানির ক্ষেত্রে নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আর এ বিষয়ে আমি খুবই সচেতন।’
হাবেক সতর্ক করে জানান, চীন থেকে সোলার প্যানেল আমদানি বন্ধ করা হলে তা ইউরোপজুড়ে নবায়নযোগ্য শক্তির বিস্তার বাধাগ্রস্ত হবে। এছাড়া ফটোভোল্টালিক মডিউলের বাজার আরো বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। জার্মানির অর্থমন্ত্রী প্রেরিত চিঠির বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।
সোলার প্যানেল খাতের উন্নয়নে জার্মানিও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। কিন্তু অর্থায়নের অভাবে সেটিও ব্যাহত হয়। সোলার প্যানেলের উপাদান আমদানিতে আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করেনি। এছাড়া ইইউ কার্বন নিঃসরণ কমানোর যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটির পরিপ্রেক্ষিতে সোলার ফটোভোল্টালিক মডিউল আমদানিতে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস। অন্যদিকে চলতি সপ্তাহে সিসিলিতে ৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার ব্যয়ে পিভি প্যানেল তৈরির কারখানা স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ খাতের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে ইইউর আর্থিক পরিষেবা খাতের কমিশনার মাইরিড ম্যাকগিনেস নতুন করে কোনো সহায়তা দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন।
ইইউ এরই মধ্যে কিছু উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া চলতি সপ্তাহে নতুন আইন নির্ধারণের কথাও বলা হয়। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সেসব পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো হবে। বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ম্যাকগিনেস জানান, সোলার প্যানেলের ব্যবহার বৃদ্ধি ও নবায়নযোগ্য শক্তিতে নির্ভরশীল হয়ে ওঠার জন্য ইইউ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। তাই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে গৃহীত যেকোনো পদক্ষেপ পর্যালোচনা ও যাচাই করতে হবে।
পর্তুগালের ইউটিলিটি ইডিপির প্রধান নির্বাহী মিগুয়েল স্টিলওয়েল ডিঅ্যান্ড্রাড বলেন, ‘আপনার পক্ষে স্বল্পমেয়াদে চীনের ওপর থেকে নির্ভরতা কমানো সম্ভব না। যদি সেটি করা হয় তাহলে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না।’










