তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অস্ট্রেলিয়া ও কাতার প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ। তবে গত বছর পর্যন্ত কাতার এলএনজি উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশের বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল। এদিকে অস্ট্রেলিয়া কাতারকে হটিয়ে শীর্ষস্থান দখলের চেষ্টা করে আসছে বহুদিন ধরে। এরই ধারাবাহিকতায় বিদায়ী বছরে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এলএনজি রফতানিকারকদের তালিকায় কাতারকে টপকে যায় অস্ট্রেলিয়া। এ অর্জনের পেছনে বাড়তি উত্তোলন সবচেয়ে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।

তবে নরওয়েভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রাইস্টাড এনার্জি পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি বছরসহ আগামী চার বছর জ্বালানি পণ্যটি উৎপাদনে কাতারের তুলনায় এগিয়ে থাকবে অস্ট্রেলিয়া। চার বছর পর জ্বালানি পণ্যটির উৎপাদনে ফের শীর্ষ অবস্থানে আসতে পারে কাতার।

রাইস্টাড এনার্জির জ্বালানি বিশ্লেষক রিয়াদুল ইসলাম জানান, এ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার হাতে সাতটি সমন্বিত এলএনজি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চার বছরের মধ্যে এ প্রকল্পগুলো পর্যায়ক্রমে উৎপাদনে এলে তা কাতারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হবে। প্রকল্পগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় এলে প্রতি বছর গড়ে তিন কোটি টনের বেশি বাড়তি এলএনজি উৎপাদন করতে পারবে অস্ট্রেলিয়া, যা দেশটিকে জ্বালানি পণ্যটির শীর্ষ উৎপাদনকারীতে পরিণত করতে পারে।

স্বাভাবিকভাবেই অস্ট্রেলিয়া নিজেদের শীর্ষস্থান ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তবে বসে থাকবে না কাতারও। জ্বালানি পণ্যটির রফতানিকারকের তালিকায় শীর্ষস্থান ফিরিয়ে আনতে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করবে দেশটি। রাইস্টাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী,  কাতার পেট্রোলিয়াম চারটি নতুন কূপ নিয়ে সমন্বিত উৎপাদনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের মাঝামাঝি থেকে এগুলোর কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে শুরু হবে। প্রকল্পটি পূর্ণ উৎপাদনে গেলে বছরে অতিরিক্ত ৩ কোটি ৩০ লাখ টন এলএনজি উৎপাদন করতে সক্ষম হতে হবে দেশটি, যা কাতারকে চার বছরের মধ্যে শীর্ষ এলএনজি উৎপাদনকারীর খেতাব এনে দেবে।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক জ্বালানিবিষয়ক কনসালট্যান্সি এনার্জিকুইস্টের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী বছরে অস্ট্রেলিয়ার এলএনজি উৎপাদন বাড়লেও কাতারের কমেছে। ২০১৯ সালে কাতারের পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিদায়ী বছরে দেশটি সব মিলিয়ে ৭ কোটি ৫০ লাখ টন এলএনজি উৎপাদন করতে পারে বলে প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি, যা আগের বছরের তুলনায় ২৫ লাখ টন কম।

উল্লেখ্য, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৮০ লাখ টনে, যেখানে কাতারের সক্ষমতা ৭ কোটি ৭০ লাখ টন।