আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ধীরে ধীরে ভারসাম্য ফিরতে শুরু করেছে। তবে এ বছরও জ্বালানিটির বাজার সংকোচনের মুখে থাকবে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। মূলত পাইপলাইনের মাধ্যমে ইউরোপের বাজারে রুশ সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়বে বাজার।

রাশিয়া গত বছর ইউরোপের বাজারে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছিল। ফলে ওই সময় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে জ্বালানিটির বৈশ্বিক বাজার। সরবরাহ সংকটের উদ্বেগ চরম আকার ধারণ করে।

তবে গত শীতে ঠাণ্ডার তীব্রতা কম থাকায় বাজারে বড় কোনো ধাক্কা লাগেনি। পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ঊর্ধ্বমুখী রফতানি ও গ্যাসের কম চাহিদার ফলে ইউরোপে জ্বালানিটির মজুদ ৬০ শতাংশই পরিপূর্ণ ছিল।

প্রান্তিকভিত্তিক গ্যাসের বাজার প্রতিবেদনে আইইএ জানায়, সংকটের উদ্বেগ কমার পাশাপাশি গ্রীষ্ম মৌসুমকে সামনে রেখে তুলনামূলক ভালো মজুদ বাজার স্বস্তির বাতাস বয়ে এনেছে। এর পরও চলতি বছর সংকোচনের মুখে থাকবে জ্বালানিটির বৈশ্বিক বাজার। চাহিদা ও সরবরাহে পুনরায় ভারসাম্য সৃষ্টির ক্ষেত্রেও নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে।  

গ্রীষ্ম মৌসুমে অতিরিক্ত তাপমাত্রাসহ বৈরী আবহাওয়ার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া এলএনজির নিম্নমুখী প্রাপ্যতা এবং রাশিয়া থেকে ইউরোপে সরবরাহ আরো কমার আশঙ্কা এ সংকোচনের প্রধান কারণ বলে জানিয়েছে আইইএ। এসব সমস্যার কারণে ফের ‍উৎকণ্ঠা যেমন বাড়তে পারে, তেমনি অস্থিতিশীল হয়ে ‍উঠতে পারে দাম।

২০২২-২৩ হিটিং মৌসুমে ইউরোপে গ্যাসের ব্যবহার রেকর্ড ১৬ শতাংশ কমেছে। ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫০০ কোটি ঘনফুটে। আইইএর প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ইউরোপে গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মজুদ রয়েছে। ফলে আসন্ন হিটিং মৌসুমে বিদ্যমান মজুদের অর্ধেক দিয়েই চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

ইউরোপ প্রাকৃতিক গ্যাসের সিংহভাগ চাহিদাই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। প্রতি বছর আমদানীকৃত গ্যাসের দুই-তৃতীয়াংশই এলএনজি। ২০২২-২৩ হিটিং মৌসুমে ইউরোপে এলএনজি আমদানি বেড়েছে ২৫ শতাংশ। আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার কোটি ঘনফুটে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একাই সরবরাহ করেছে ৪৫ শতাংশ। রাশিয়ার বিকল্প উৎস হিসেবে দেশটি থেকে অব্যাহত বাড়ছে এলএনজি আমদানি।

এদিকে চলতি বছর বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহ ৪ শতাংশ বা ২ হাজার কোটি ঘনফুটের বেশি বাড়তে পারে। তবে ইউরোপে পাইপলাইনের মাধ্যমে রুশ সরবরাহ কমে যাওয়ায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে তাতে ভারসাম্য আনতে পারবে না এ প্রবৃদ্ধি।

চীন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এলএনজি ব্যবহারকারী দেশ। গত বছর করোনাভাইরাস মহামারী প্রতিরোধে নেয়া বিধিনিষেধে এলএনজি আমদানি ২০ শতাংশ কমে গিয়েছিল। জিরো কভিড-১৯ নীতি থেকে সরে আসায় দেশটিতে এলএনজির চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়ছে। এ বছরের মার্চে আমদানি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বছরজুড়ে আমদানি গত বছরের তুলনায় ১০-১৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে মনে করছে আইইএ।