চীনে বিদ্যুৎ খাতে কয়লার চাহিদা কমায় মজুদ বেড়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে জ্বালানিটির দামও কম। এ কারণে গত মাসে দেশটির কয়লা আমদানি লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে। এর আগের মাসে যদিও আমদানি বেড়ে ১৫ মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছিল। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস জানায়, চীন বিশ্বের শীর্ষ কয়লা ব্যবহারকারী দেশ। গত মাসে দেশটি ৪ কোটি ৬ লাখ ৮০ হাজার টন কয়লা আমদানি করে। মার্চে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ১১ লাখ ৭০ হাজার টন।
চীনে এপ্রিল ও মে মাসে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুতের ব্যবহার কম হয়। কারণ এ সময় গরম পড়লেও তাপমাত্রার তীব্রতা থাকে কম। তাই এসি ব্যবহারের চাহিদাও বাড়ে না।
এদিকে গত মাসে কয়লা আমদানি ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় ৭৩ শতাংশ বেড়েছে। কভিড-১৯-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় শিল্প খাতে ঊর্ধ্বমুখী চাহিদাই এর মূল কারণ। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি বৃদ্ধিও এতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
শুল্ক বিভাগের তথ্য বলছে, বছরের প্রথম চার মাসে চীন সব মিলিয়ে ১৪ কোটি ২৪ লাখ ৮০ হাজার টন কয়লা আমদানি করে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি বেড়েছে ৮৯ শতাংশ।
চায়না কোল ট্রান্সপোর্টেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাসোসিয়েশন (সিসিটিডি) জানায়, দেশটির আট উপকূলীয় অঞ্চলের ইউটিলিটিগুলোয় গত মাসে দৈনিক কয়লা ব্যবহার কমে প্রায় ১৭ লাখ ৪০ হাজার টনে নেমেছে, যা এর আগের মাসে ছিল ১৮ লাখ ৭০ হাজার টন।
সিসিটিডির তথ্যমতে, এপ্রিলে ইউটিলিটিগুলোয় কয়লার মজুদ বেড়ে প্রায় ৩ কোটি ২৬ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে, যা ১৯ দিন ব্যবহারের জন্য যথেষ্ঠ।
চীনের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরগুলোয় ৫ হাজার ৫০০ কিলোক্যালোরিসমৃদ্ধ তাপীয় কয়লার দাম কমে টনপ্রতি ১ হাজার ইউয়ান বা ১৪৪ ডলার ৬৭ সেন্টে নেমেছে, যা মার্চে ছিল ১ হাজার ১৩০ ইউয়ান। আগামী সপ্তাহগুলোয় দাম আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
জুন-আগস্ট পর্যন্ত কয়লার চাহিদা বেড়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ এ সময় কম বৃষ্টিপাতের কারণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
চীনের ইলেকট্রিসিটি কাউন্সিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিদ্যুতের ব্যবহার লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়বে। বছরের প্রথমার্ধে ব্যবহার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বাড়তে পারে। প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।










