চলতি গ্রীষ্মের ছুটির মৌসুমে ৫০ শতাংশ মুনাফা কমেছে ব্রিটিশ সুপার মার্কেট চেইন মরিসনসের। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে অপ্রত্যাশিত মূল্যস্ফীতির চাপের কারণে মুনাফা কমেছে প্রতিষ্ঠানটির। এ কারণে চলতি মাসে দেশটির বাজারে চতুর্থ বৃহত্তম মুদি চেইন হিসেবে অবস্থান হারিয়েছে সংস্থাটি। এ তালিকায় মরিসনসকে পেছনে ফেলে চতুর্থ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে অ্যালডি।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩১ জুলাই থেকে পরবর্তী ১৩ সপ্তাহে মরিসনসের মুনাফা কমে ১৭ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। যেখানে এক বছর আগে একই সময়ে এ মুনাফার পরিমাণ ছিল ৩৫ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড। একই সময়ে পণ্য বিক্রি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৪৮০ কোটি পাউন্ড আয় করেছে মরিসনস। কিন্তু নতুন স্টোর চালুর পর এ আয় ৩ শতাংশের বেশি কমেছে।
গত বছর ৭০০ কোটি পাউন্ড ব্যয়ে মরিসনসকে অধিগ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি ইকুইটি ফার্ম ক্লেটন ডুবিলিয়ার অ্যান্ড রাইস। মূল্যস্ফীতিসহ অন্যান্য সমস্যায় বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মরিসনসকে অধিগ্রহণ করে ফার্মটি।
মরিসনসের কর্মকর্তারা জানান, নিজেদের খাদ্য উৎপাদন কার্যক্রমে অপ্রত্যাশিত মূল্যস্ফীতির চাপের কারণে ব্যবসা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এ ক্ষতির প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সম্প্রতি মরিসনস তার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ব্যবসায়ে হাজার হাজার পাউন্ড বিনিয়োগ করতে আহ্বান জানিয়েছে।
মরিসনসের এক কর্মকর্তা বলেন, একজন খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা অন্যান্য খুচরা বিক্রেতাদের তুলনায় মূল্যস্ফীতির প্রভাব আগেই অনুভব করতে পারি।
কভিড-১৯ মহামারীসহ ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে যুক্তরাজ্যের খুচরা বিক্রেতারা প্রতিনিয়ত উচ্চ খাদ্যমূল্য মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনে জরুরি অবস্থার প্রভাবে জ্বালানি এবং খাদ্য উৎপাদনে আরো ব্যয় বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রেক্সিটের (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া) কারণে যুক্তরাজ্যের খুচরা বিক্রেতা এবং উৎপাদকদের কাঁচামাল আমদানিতে অধিক ব্যয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এদিকে খরার কারণেও দেশটির খাদ্য উৎপাদনে প্রভাব পড়েছে। যদিও উষ্ণ আবহাওয়া কিছু ফল উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
সেপ্টেম্বরে দেশটির ভোক্তারা ৫ দশমিক ৭ শতাংশ পণ্য মূল্যস্ফীতির সম্মুখীন হয়েছে। ২০০৫ সালে ব্রিটিশ খুচরা কনসোর্টিয়াম নিলসেন আইকিউ সূচক শুরু হওয়ার পর চলতি মাসেই সর্বোচ্চ পণ্য মূল্যস্ফীতির রেকর্ড হয়েছে। যেখানে গত আগস্টে এ মূল্যস্ফীতির পরিমাণ ছিল ৫ দশমিক ১ শতাংশ।
যুক্তরাজ্যের ক্রেতারা জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ঐতিহ্যবাহী সুপার মার্কেট টেসকো, সেন্সবারি এবং অ্যাসডা থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। তারা এখন অধিক ডিসকাউন্ট প্রদানকারী জার্মানভিত্তিক অ্যালডি এবং লিডের মতো সুপার মার্কেটের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।










