চীনের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার। চীনে চাহিদা হ্রাসের আশঙ্কায় কমতে শুরু করেছে জ্বালানি পণ্যটির দাম। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের বাজার ভারসাম্য ফেরাতে নতুন করে উত্তোলন কমিয়ে আনার লক্ষ্যে পণ্যটির রফতানিকারকদের জোট ওপেকে প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল সৌদি আরব। তবে রিয়াদের এ প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে রাশিয়া। জ্বালানি তেলের উত্তোলন নতুন করে কমিয়ে আনতে রাজি নয় বলে জানিয়েছে মস্কো। এর মধ্য দিয়ে আগামী মাসে ওপেকের বিদ্যমান উত্তোলন হ্রাসসংক্রান্ত চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

গত মাসের মাঝামাঝি করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় চীনা অর্থনীতির সামনে সংকুচিত হয়ে পড়ার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের চাহিদাও।

এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৫০ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দামও ব্যারেলপ্রতি ৫৫ ডলারে নেমেছে। দরপতন ঠেকাতে উদ্যোগী হয়েছে ওপেকের প্রভাবশালী সদস্য সৌদি আরব। দেশটি ওপেক-নন ওপেক দেশগুলোকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন আরো কমিয়ে বাজার ভারসাম্য ফেরানোর আহ্বান জানিয়েছে।

সৌদি আরবের এ প্রস্তাব নিয়ে জরুরি বৈঠক আহ্বান করে ওপেক। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দৈনিক গড় উত্তোলন নতুন করে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ ব্যারেল কমানোর প্রস্তাব দেয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। করোনাভাইরাসের কারণে মস্কো নতুন করে জ্বালানি তেলের উত্তোলন কমিয়ে আনার পক্ষে নয়। তবে এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ওপেক কিংবা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

বাজার ভারসাম্য ফেরাতে এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক উত্তোলন হ্রাস চুক্তি এগিয়ে নিচ্ছে সৌদি আরব ও রাশিয়াসহ ওপেক-নন ওপেক দেশগুলো। আগামী মার্চে মেয়াদ শেষের পর চুক্তিটি নবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে। এ মুহূর্তে রাশিয়ার এমন প্রত্যাখ্যান চুক্তিটির মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মস্কোর অবস্থান নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি করেছে।