বিশ্ববাজারে ডলারের দাম বেড়েছে। এর বিপরীতে কমেছে বেশির ভাগ দেশের মুদ্রার মান। ফলে এসব দেশের মানুষের জীবনযাত্রার ওপর চাপও বেড়েছে। বিনোদনের জন্য বিশ্বভ্রমণ তো দূরের কথা, জীবন চালিয়ে নিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
মূল্যস্ফীতির চাপ যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের ওপরও পড়েছে। তবে যখন দেশের বাইরে ভ্রমণের প্রসঙ্গ আসছে, তখন ডলারের শক্তিশালী মানই তাদের জন্য নানা সুবিধা সৃষ্টি করে দিচ্ছে। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশ নানা ধরনের সেবার ওপর যেসব ছাড় বা মূল্যহ্রাস দিচ্ছে, তার সর্বোচ্চ সুবিধা উপভোগ করছেন মার্কিনরা।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক মন্দা, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কার মধ্যেও অর্থনীতিবিদরা দেখছেন মার্কিন ডলার এখনো শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়িয়ে দেয়ায় ডলারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা অধিক মুনাফা পাচ্ছেন।
দ্য ডলার বাজেটের পারসোনাল ফাইন্যান্স এক্সপার্ট ক্যালেব রিড বলেন, দেশের মাটিতে মার্কিনরা উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বেশ বিপাকেই রয়েছেন। তবে এ থেকে মুক্তি পেতে তারা দেশের বাইরে থেকে ঘুরে আসতে পারেন।
অন্য যেকোনো দেশে ঘুরতে গেলে থাকা-খাওয়াসহ ঘোরাঘুরির খরচে বেশ লাভবান হবেন তারা। বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোয় গেলে বেশকিছু ডলার সাশ্রয় হবে তাদের।
এরই মধ্যে জাপান পর্যটকদের জন্য সীমান্ত পুরোপুরি খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউরোপের ভ্রমণকেন্দ্রগুলোও পর্যটকদের জন্য নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা ঘোষণা করেছে। যার ফলে এসব দেশে বড় বড় ছাড় আর সুবিধা পাচ্ছেন মার্কিন ভ্রমণকারীরা। যেহেতু তারা ডলারে এসব সেবার মূল্য পরিশোধ করবেন তাই তাদের জন্য ছাড়ের মাত্রাটাও বেশি হবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হবে যে, গোটা বিশ্বই বুঝি মার্কিনদের জন্য মূল্যছাড়ের ডালি সাজিয়ে বসে আছে।
একই অবস্থা আবাসন খাতেও। শক্তিশালী ডলারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের জন্য দেশের বাইরে জমি কেনা বা বিনিয়োগ করা সহজ হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করা আরো কঠিন হয়ে পড়েছে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য।










