ধাতব শিল্পের মধ্যে ইস্পাত খাতে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ইরান। উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশটি থেকে ব্যবহারিক ধাতুটির রফতানিতেও চাঙ্গা ভাব বজায় রয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় চলতি ইরানি বছরের প্রথম নয় মাসে (২১ মার্চ-২১ ডিসেম্বর) ইরান থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৭৮ লাখ টন ইস্পাত (পরিশোধিত ও অর্ধপরিশোধিত) রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। ইরানিয়ান স্টিল প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস।
তথ্যমতে, এ সময় ইরান থেকে মোট রফতানি হওয়া ইস্পাতের ৬৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ হিস্যা রয়েছে অর্ধপরিশোধিত ইস্পাত রফতানির দখলে। ইরানি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশটি থেকে অর্ধপরিশোধিত ইস্পাত রফতানি দাঁড়িয়েছে ৫০ লাখ ৬ হাজার টনে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে আবার সবচেয়ে বেশি রফতানি হয়েছে বিলেট ও ব্লুম। এ-জাতীয় পণ্য রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৪ শতাংশ বেড়ে ৩৫ লাখ ২০ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। স্ল্যাব রফতানি দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৪০ হাজার টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি।
চাঙ্গা ভাব বজায় রয়েছে দেশটি পরিশোধিত ইস্পাত রফতানিতেও। চলতি ইরানি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত ইস্পাত পণ্য রফতানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ২০ হাজার টনে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২৭ শতাংশ বেশি।
ওয়ার্ল্ড স্টিলের তথ্য অনুযায়ী, ২ কোটি ৪৫ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদনের মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালে পণ্যটির শীর্ষ উৎপাদনকারীদের বৈশ্বিক তালিকায় ইরান ছিল ১১তম। ওই সময় বিশ্বের ১৬তম ইস্পাত রফতানিকারকের মর্যাদা পেয়েছিল ইরান। দেশটি স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে ৯৩ লাখ টন ইস্পাত রফতানি করেছিল। তবে সম্প্রতি দেশটির ধাতব খাতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দেশটির ইস্পাতসহ অন্যান্য ধাতবপণ্য রফতানি ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।








