বর্তমানে বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখছে। এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তৈরি পোশাক শিল্পে একটি সুষ্ঠু উৎপাদন পরিবেশ বজায় থাকা দরকার, যা আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। এমন প্রেক্ষাপটে দেশ ও অর্থনীতির স্বার্থে তৈরি পোশাক শিল্প যাতে রাজনৈতিক হাতিয়ার না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখে কর্মসূচি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান। গতকাল এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান তিনি।
করোনা, রাশিয়া-ইউক্রেন ও ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের উল্লেখ করে ফারুক হাসান জানান, বিশ্ব অর্থনীতি, সেই সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিশেষ করে পোশাক শিল্পের সামনে অশনি সংকেত হিসেবে দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে বাংলাদেশ থেকে প্রধান বাজারগুলোতে পোশাক রফতানি কমেছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানি ডলার ভ্যালুতে কমেছে ২২ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং পরিমাণের দিক থেকে কমেছে ২৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ডলার ভ্যালুতে কমেছে ২৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং পরিমাণের দিক থেকে কমেছে ২৯ দশমিক ৫১ শতাংশ।
ফারুক হাসান বলেন, ‘একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমগ্র বিশ্ব থেকে ডলার ভ্যালুতে পোশাক আমদানি কমেছে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং পরিমাণের দিক থেকে ১৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ থেকে ডলার ভ্যালুতে পোশাক আমদানি কমেছে ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং পরিমাণের দিক থেকে ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশ কমেছে। এ হিসেবে বৈশ্বিক পোশাক আমদানির গতি শ্লথ হয়ে গেছে এবং ২০২২-এর তুলনায় ২০২৩-এ পোশাকের ইউনিট মূল্যও কমেছে। এ পরিস্থিতিতে আশঙ্কা, ২০২৩ সালের বৈশ্বিক পোশাক বাণিজ্য ২০২২ সালের তুলনায় কম হবে।’
একই সঙ্গে ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলার পরিমাণ, পোশাক ও বস্ত্র শিল্পের যন্ত্র/যন্ত্রাংশ আমদানি ও চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং কমে আসার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয় বিবৃতিতে। সঙ্গে বলা হয়, শিল্পের জন্য চরম উৎকণ্ঠার বিষয় হলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমাদের উৎপাদন ব্যয় অত্যধিক হারে বেড়েছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডিজেল, পরিবহন ব্যয়সহ অন্য খাতগুলোতে ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয়ে নেতিবাচক প্রভাব রাখছে।
আরো কিছু সংকট তুলে ধরে বলা হয়, তৈরি পোশাক শিল্প খাত হলো ৪০ লাখ শ্রমিকের একটি শিল্প, যার ওপর সরাসরিভাবে দুই কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। এ শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা টিকিয়ে রাখা শ্রমিক, তাদের পরিবার ও বৃহত্তর অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফারুক হাসান বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখছে। এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য পোশাক শিল্পে একটি সুষ্ঠু উৎপাদন পরিবেশ বজায় থাকা দরকার, যা প্রকারান্তরে আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। এ অবস্থায় দেশ ও অর্থনীতির স্বার্থে পোশাক শিল্পকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ করছি।’









