ব্রিটেনে বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনের (ইভি) চার্জিংয়ে ব্যয় বেড়েছে। দেশটির ইভির চালকরা ক্রমাগত ব্যয় বৃদ্ধির মুখোমুখি হচ্ছেন। গত মে মাস থেকে খাতটির ব্যয় ৪২ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। সম্প্রতি ইভি চার্জিং ব্যয় নিয়ে কাজ করা আরএসি চার্জ ওয়াচ প্রকাশিত এক উপাত্তে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর সিএনবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটিতে ইভি চার্জ দিতে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় গড়ে ৬৩ দশমিক ২৯ পেনি (৭২ সেন্ট) ব্যয় হয়। ৬৪ কিলোওয়াট ব্যাটারি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন সাধারণ ইভির চার্জিং ব্যয় গড়ে ৩২ দশমিক ৪১ পাউন্ড (প্রায় ৩৪ দশমিক ৮৭ ডলার)।
আরএসি চার্জ ওয়াচের উপাত্তে বলা হয়, ব্রিটেনে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঊর্ধ্বমুখী ব্যয় বাড়ছে। তবে ইভির চার্জিং ব্যয়ের তুলনায় এটির ব্যয় বৃদ্ধির পরিমাণ কম। একই সঙ্গে দেশটির আল্ট্রা-র্যাপিড চার্জার ব্যবহারকারীদের গড় চার্জিং ব্যয়ও ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে পাবলিক নেটওয়ার্কে একজন ইভি চালকের র্যাপিড অথবা আল্ট্রা-র্যাপিড চার্জার ব্যবহার করে বিদ্যুতের জন্য মাইলপ্রতি ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৮ পেনি।
ব্রিটেনের বিভিন্ন শহরে গ্যালন হিসেবে গড়ে ৪০ মাইল গাড়ি চালানোর ওপর ভিত্তি করে পেট্রল ও ডিজেলে ব্যয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছে। সেখানে পেট্রলচালিত গাড়ির জন্য প্রতি মাইলে ১৯ পেনি এবং ডিজেলচালিত গাড়ির জন্য প্রতি মাইলে ২১ পেনি ব্যয় হচ্ছে বলেও উপাত্তে উঠে এসেছে। ব্যয় কমাতে আরএসি চার্জ ওয়াচ তাদের উপাত্তে, বাসাবাড়িতে বিদ্যুতের ব্যয় কম হওয়ায় ইভি ব্যবহারকারীদের নিজ নিজ বাসাবাড়িতে চার্জ দেয়ার বিকল্প উপায় ব্যবহারের কথা বলেছেন।
এদিকে ব্রিটেন সরকারের জ্বালানির মূল্য নিশ্চয়তা দেয়ার কাজটি দ্রুত কার্যকর হতে চলেছে। এটি কার্যকর হলে বাসাবাড়িতে ইভির মাইলপ্রতি চার্জিং ব্যয় ৯ পেনিতে নেমে আসবে। তখন বাসাবড়িতে ইভির ৮০ শতাংশ চার্জিংয়ের জন্য ১৭ দশমিক ৮৭ পাউন্ড ব্যয় হবে।
আরএসির ইভি বিভাগের মুখপাত্র সাইমন উইলিয়ামস বলেন, যারা ইভি ব্যবহার করছেন অথবা করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাদের মধ্যে চার্জিং গাড়ি পেট্রল অথবা ডিজেলচালিত গাড়ির চেয়ে তুলনামূলক ব্যয় কম এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে এ দুটির ব্যবধান সংকুচিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, পাবলিক র্যাপিড এবং আল্ট্রা-র্যাপিড ব্যবহারকারী ইভি চালকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ব্রিটেন সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন ডিজেল ও পেট্রলচালিত গাড়ি এবং ভ্যান বিক্রি বন্ধ করতে চায়। একই সঙ্গে ২০৩৫ সালের মধ্যে সব নতুন গাড়ি ও ভ্যানে শূন্য টেল-পাইপ নিঃসরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে। আগামী বছরগুলোয় দেশটিতে আরো ইভি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এরই মধ্যে আরএসি সরকারি ও ব্যক্তিগত চার্জিংয়ের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা দূর করতে পাবলিক চার্জারগুলোয় বিদ্যুতের বিক্রয় কর কমানোর পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছে।
আরএসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পাবলিক চার্জার ব্যবহারকারী ইভি চালকরা বাসাবাড়িতে চার্জ করার তুলনায় ২০ শতাংশ ভ্যাট প্রদান করেন। যেখানে বাসাবাড়িতে চার্জিংয়ের জন্য মাত্র ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়।
এক সরকারি মুখপাত্র বলেন, ইভির সস্তা চার্জিং, রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় কম হওয়া এবং ট্যাক্স ইনসেনটিভের জন্য সামগ্রিক ব্যয় কম হচ্ছে। আর এটি পেট্রল ও ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে সঞ্চয়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।










