২০২৩-২৪ বিপণন মৌসুমে কফির বৈশ্বিক সরবরাহ বেড়ে ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্তে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শীর্ষ সরবরাহকারী দেশ ব্রাজিলে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। এতে উৎপাদন বাড়বে। এছাড়া ভিয়েতনামের কফি রফতানিও ঊর্ধ্বমুখী। এসব কারণেই আগামী মৌসুমে ব্যবহারের তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকবে। সম্পতি এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেজপয়েন্ট।
এ বছরের এপ্রিলে কফির ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুম শুরু হয়েছে। আগামী বছরের মার্চে মৌসুম শেষ হবে। এ মৌসুমে ২১ লাখ ৭০ হাজার ব্যাগ (প্রতি ব্যাগে ৬০ কেজি) কফির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। ব্রাজিলে ভয়াবহ খরা ও তুষারপাতের কারণে তলানিতে নেমেছে দেশটির কফি উৎপাদন। এছাড়া অন্য শীর্ষ দেশগুলোয় সরবরাহ চেইনে জটিলতাসহ নানা প্রতিবন্ধকতা বাজারকে ঘাটতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তবে আগামী বছর পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে মোড় নিতে পারে। এসব সময় আন্তর্জাতিক বাজারে ঘাটতির পরিবর্তে উদ্বৃত্ত দাঁড়াবে ৩৭ লাখ ৪০ হাজার ব্যাগে।
হেজপয়েন্টের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ বিপণন মৌসুমে ব্রাজিলে ৬ কোটি ৪৯ লাখ থেকে ৬ কোটি ৮৯ লাখ ব্যাগ কফি উৎপাদন হতে পারে। ২০২২-২৩ মৌসুমে উৎপাদন প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫ কোটি ৯০ লাখ ব্যাগ। অর্থাৎ উৎপাদন বাড়তে পারে ৫৯-৯৯ লাখ ব্যাগ পর্যন্ত।
হেজপয়েন্টের কফির বাজার বিশ্লেষক নাতালিয়া গ্যান্ডলফি প্রতিবেদনটিতে বলেন, চলতি মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলেও আগামী বছর ঘুরে দাঁড়াবে ব্রাজিলের কফি খাত। এর পরও উৎপাদন ২০২০-২১ মৌসুমে তুলনায় নিচেই অবস্থান করবে।
বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ বিপণন মৌসুমে ৪ কোটি ৪৪ লাখ থেকে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ব্যাগ অ্যারাবিকা কফি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২২-২৩ মৌসুমে উৎপাদন হতে পারে ৩ কোটি ৬০ লাখ ব্যাগ। এদিকে রোবাস্তা কফির উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ২ কোটি ৫ লাখ থেকে ২ থেকে ২৫ লাখ ব্যাগ পর্যন্ত। চলতি মৌসুমে উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ২ কোটি ৩০ লাখ ব্যাগে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০২৩-২৪ মৌসুমে উদ্বৃত্ত থাকলেও কফির মজুদ ও ব্যবহারের অনুপাত প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। কারণ পানীয় পণ্যটির মজুদ রেকর্ড সর্বনিম্নে অবস্থান করছে। বিশেষ করে এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে মজুদ লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে।










