নভেম্বরে ভারতে তাপীয় কয়লার আমদানি ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে চলে এসেছে। দেশটির অন্যতম পরামর্শ প্রতিষ্ঠান কোলমিন্ট প্রকাশিত তথ্যসূত্রে এটি জানা গিয়েছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে কয়লার উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় আমদানিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
কোলমিন্টের তথ্যানুযায়ী, নভেম্বরে দেশটি ১ কোটি ৮৩ হাজার টন তাপীয় কয়লা আমদানি করেছে। যেখানে অক্টোবরে এর পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২০ লাখ টন। অন্যদিকে ২০২১ সালের নভেম্বরে পরিমাণ ছিল ৯৪ লাখ ৫০ হাজার টন। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কোল ইন্ডিয়া অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে ব্যাপক হারে কয়লা উত্তোলন শুরু করায় তা আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। প্রতিষ্ঠানটি ভারতের মোট কয়লা চাহিদার ৮০ শতাংশ উত্তোলন করে থাকে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কয়লা উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানটি চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে উত্তোলন হার ছয় গুণ বাড়তে দেখেছে। এ সময় ৪১ কোটি ২৬ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের পর দেশটি প্রথমবারের মতো বার্ষিক কয়লা উত্তোলন লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পথে রয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, আগের মাসের তুলনায় নভেম্বরে আমদানি কমায় টানা পাঁচ মাস ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা সরবরাহের হারেও পতন দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে রান্নাবান্নার কাজে যে কয়লা ব্যবহূত হতো নভেম্বরে তার আমদানি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার টনে নেমে এসেছে। যেখানে অক্টোবরে এর পরিমাণ ছিল ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টন। ২০২১ সালের নভেম্বরে এর পরিমাণ ছিল ৫৩ লাখ টন। কয়লা আমদানি, ব্যবহার ও উত্তোলনের দিক থেকে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র কয়লা সরবরাহকারী।
কোলমিন্টের তথ্যানুযায়ী, কয়লা আমদানিসহ মেটকোক ও পেটকোক উৎপাদনের হার ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৭০ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া ও রাশিয়া থেকে কয়লা ও কোক আমদানি ব্যয় বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সমান। শুধু রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকেই সামগ্রিকভাবে পণ্য বাজারজাতের হার বেড়েছে।










