জাপানের রাজধানীতে মূল্যস্ফীতির চাপ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। অক্টোবরে শহরের কোর মূল্যস্ফীতি ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হারে পতন এবং উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম বাড়ছে।
কিয়োদো নিউজের খবর অনুসারে, চলতি মাসে টোকিওতে কোর ভোক্তা মূল্যস্ফীতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। গতকাল সরকারি এক উপাত্তে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বাজারে দামের অস্থিরতায় থাকা তাজা খাবারের দাম বাদ দিয়ে হিসাব করা কোর মূল্যস্ফীতি টানা ১৪তম মাসে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। অক্টোবরে গত মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। এটি শুধু জাপানের রাজধানী টোকিওতে ঘটেছে।
এটি পাঁচ মাস ধরে ব্যাংক অব জাপানের (বিওজে) ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ঊর্ধ্বে রয়েছে। ফলে দেশের অন্যান্য অংশে মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা কেমন হবে সেটা টোকিওর কোর সিপিআই সূচক থেকে সহজেই অনুমান করা যায় বলে জানান দেশটির অর্থনীতিবিদরা।
এক পূর্বাভাসে অর্থনীতিবিদরা আরো বলেন, গত সেপ্টেম্বরে দেশজুড়ে মূল্যস্ফীতি ৩ শতাংশের ঊর্ধ্বে ছিল। চলতি বছরের শেষের দিকে এটি আরো বৃদ্ধি পাবে। ফলে বিওজের সুদের হার নিম্ন রাখার নীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করবে। জাপানের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানায়, একাধিক ভোগ কর বৃদ্ধির প্রভাব বাদ দিয়ে ১৯৮২ সালের জুনে শেষবারের মতো টোকিওর কোর সিপিআই ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
সরকারি এ উপাত্ত এমন সময়ে প্রকাশ পেল যখন জাপান সরকার ব্যবসা ও পারিবারিক ব্যয়ের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আগামী বছর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গতকাল ২০ হাজার কোটি ডলার বা ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি ইয়েনের প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা দেয় প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সরকার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবরে টোকিওতে খাদ্যপণ্যের দাম ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে খাদ্যপণ্যের দাম দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেলেও দেশটির নাগরিকদের মজুরি সেই হারে বৃদ্ধি পায়নি। ফলে ভোক্তারা বড় একটি ধাক্কার মুখোমুখি হয়েছে।
একই সঙ্গে জ্বালানির মূল্যও ২৪ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুৎ বিল ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং গ্যাস বিল ২৯ দশমিক ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্যাসোলিন ও কেরোসিনের মূল্যও বেড়ে গিয়েছে। তবে এ বৃদ্ধির গতি ধীর হয়েছে। সরকার এ দুটি পণ্যে পাইকারি বিক্রেতাদের ভর্তুকি দেয়ায় মূল্যবৃদ্ধির গতি ধীর হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জাপানে শীত মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানির মূল্য আবারো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।










