আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল দিনের শুরুতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে আসে। এ সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৫ ডলারের নিচে নামে। প্রতি ব্যারেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম নামে ৬০ ডলারের নিচে। এর আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জের ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গিয়েছিল। খবর রয়টার্স ও ব্লুমবার্গ।
রয়টার্সের কমোডিটি প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গতকাল দিনের শুরুতে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হয়েছে ৬৪ ডলার ৯৮ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ৩৯ সেন্ট কম। অন্যদিকে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম দাঁড়িয়েছে ৫৯ ডলার শূন্য ৪ সেন্টে। আগের দিনের তুলনায় জ্বালানি পণ্যটির দাম কমেছে ব্যারেলপ্রতি ৫২ সেন্ট।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সাপ্তাহিক বাজার পরিস্থিতিও নিম্নমুখী হয়েছে। সর্বশেষ সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কম ছিল। একইভাবে সর্বশেষ সপ্তাহে ডব্লিউটিআইয়ের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। বর্তমানে জ্বালানি পণ্যটির উভয় ব্রেঞ্চমার্ক মার্কিন বিমান হামলায় ইরানি তারকা জেনারেল কাসেম সুলেইমানির হত্যাকাণ্ডের আগের সময়ের তুলনায় কম রয়েছে।
এ বিষয়ে শিকাগোভিত্তিক প্রাইস ফিউচার্স গ্রুপের জ্বালানি তেলবিষয়ক বিশ্লেষক ফিল ফ্ল্যায়েন বলেন, কাসেম সুলেইমানি হত্যাকাণ্ডের পর ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ নতুন মাত্রা পায়। এ সময় ধারণা করা হচ্ছিল, মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষত ইরান হরমুজ প্রণালির বাণিজ্যপথ বন্ধ করে দিলে পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানিসহ সব ধরনের পণ্য আনা-নেয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়াতে পারে। বাস্তবে এমন কিছুই হয়নি। আশঙ্কার কারণে বছরের শুরুর দিক থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম চাঙ্গা হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা কমে এসেছে। তবে ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও এর জের ধরে ইরানের প্রতিক্রিয়ার ঘটনা জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি ফের বদলে দিতে পারে।
৩ জানুয়ারি ভোরে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে পেন্টাগনের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা কাসেম সুলেইমানির গাড়িবহরে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতির জের ধরে ওইদিনই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়। প্রতিশোধ হিসেবে ৮ জানুয়ারি ইরাকের মাটিতে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। এতে জ্বালানি পণ্যের বাজার আরো চাঙ্গা হয়। তবে তা ছিল সাময়িক। গতকাল দিনের শুরুতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে এসেছে। বিদ্যমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে নাটকীয় অবনতি না হলে আগামীতে জ্বালানি তেলের দাম আরো কমে আসতে পারে।









