চলতি বছর খুব খারাপ সময়ের মুখোমুখি হয়েছে জ্বালানি তেলের বাজার। বছরের শুরুতেই নভেল করোনাভাইরাসের ধাক্কায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের চাহিদা ও উত্তোলনে ধস নেমেছে। অন্যান্য দেশের মতো কানাডায়ও জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন কমেছে। চলতি বছরের মে মাসে দেশটিতে জ্বালানি তেল উত্তোলন কমে চার বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। ইউএস ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স ও অয়েলপ্রাউসডটকম।

ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে কানাডার কূপগুলো থেকে দৈনিক গড়ে ৪৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করা হয়েছে, আগের মাসের তুলনায় যা দৈনিক গড়ে ৫ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল কম। একই সঙ্গে তা ২০১৬ সালের মে মাসের পর দেশটিতে সর্বনিম্ন মাসভিত্তিক উত্তোলন।

এদিকে চলতি বছরের প্রথমার্ধেও (জানুয়ারি-জুন) কানাডার গড় জ্বালানি তেল উত্তোলনে মন্দা ভাব বজায় রয়েছে। ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশটির জ্বালানি তেল উত্তোলনকারীরা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পণ্যটির উত্তোলন ২০ শতাংশ কমিয়েছে। ২০১৯ সালের প্রথমার্ধে দেশটি দৈনিক গড়ে ৫৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছিল। মূলত উত্তর আমেরিকায় জ্বালানি চাহিদা হ্রাস ও মূল্য হ্রাস দেশটিতে পণ্যটির উত্তোলন হ্রাস প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বলে জনিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত মার্চে কানাডা দৈনিক গড়ে ৫৬ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছিল। এরপর পণ্যটির দাম কমতে শুরু করে। কমতে কমতে এপ্রিলে এসে ওয়েস্টার্ন কানাডিয়ান সিলেক্টের (ডব্লিইসিএস) দাম সিঙ্গেল ডিজিটে নামে। এর জের ধরে লোকসান এড়াতে এপ্রিলে পণ্যটির উত্তোলন কমিয়ে আনে স্থানীয় উত্তোলনকারীরা। এ সময়ে আগের মাসের তুলনায় দৈনিক গড়ে সাত লাখ ব্যারেল কমিয়ে পণ্যটির দৈনিক গড় উত্তোলন দাঁড়ায় ৪৯ লাখ ব্যারেল, মাসভিত্তিক উত্তোলন হ্রাসে যা ২০১৬ সালের মাঝামঝি সময়ের পর সর্বনিম্ন। ২০১৬ সালের মে মাসে দাবানলের কারণে দেশটিতে পণ্যটির উত্তোলন ব্যবক হারে কমেছিল। ওই সময় কানাডা দৈনিক গড়ে মাত্র ৬ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছিল।

এর পরের মাসেও দেশটিতে পণ্যটির উত্তোলনের নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে দেখা যায়। এপ্রিলের তুলনায় পুনরায় দৈনিক গড়ে ৫ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল কমে মে মাসে দেশটি দৈনিক গড়ে চার লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে জ্বালানি তেলজাতীয় পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এতে আগামীতে পণ্যটির উত্তোলন বাড়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, বছর শেষে দেশটির দৈনিক গড় জ্বালানি তেল উত্তোলন দাঁড়াতে পারে ৫১ লাখ ব্যারেলে। আগামী বছর তা আরো বেড়ে ৫৫ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হতে পারে। উল্লেখ্য, কানাডা ওপেক প্লাস চুক্তির আওতাভুক্ত নয়।