প্রতি বছর ১ এপ্রিল থেকে ভারতে নতুন অর্থবছর শুরু হয়। শেষ হয় পরের বছরের মার্চে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে চাল রফতানি ১৮-২০ শতাংশ কমে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ট্রেড ফিন্যান্স কোম্পানি ড্রিপ ক্যাপিটালের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। খবর বিজনেস লাইন ও ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস।
ভারত বিশ্বের শীর্ষ চাল রফতানিকারক
দেশ। কৃষিপণ্যটির মোট বৈশ্বিক রফতানি বাণিজ্যে দেশটির হিস্যা ২৫ শতাংশ। এছাড়া দেশটি
থেকে মোট রফতানি হওয়া পণ্যের ২ শতাংশের বেশি হিস্যা থাকে চালের দখলে। ড্রিপ ক্যাপিটালের
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মধ্যে এ খাতে দেশটির
কমপাউন্ড অ্যানুয়াল গ্রোথ রেট বা সিএজিআর দাঁড়িয়েছে ১৪ শতাংশ। তবে চলতি বছরে দেশটি
থেকে পণ্যটি রফতানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে পারে।
তথ্যমতে, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে
চাহিদা হ্রাস, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অভ্যন্তরীণ কঠোর বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা, কৃষিপণ্যটিতে সরকারর
ন্যূনতম সহায়তা মূল্য (এমএসপি) বৃদ্ধি ও বাসমতি চালের শীর্ষ ক্রেতা ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র
আরোপিত আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চলতি অর্থবছরে দেশটি থেকে পণ্যটির রফতানি হ্রাসে প্রভাবক
হিসেবে কাজ করবে। সম্প্রতি দেশটির চালের রফতানি মূল্য রেকর্ড বেড়ে যায়, যা আন্তর্জাতিক বাজারে
পণ্যটির চাহিদা হ্রাসের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
ভারতের হরিয়ানা রাজ্য থেকে
সবচেয়ে বেশি চাল রফতানি করা হয়। ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত এ রাজ্য থেকে
পণ্যটির সিএজিআর বেড়েছে ৩ শতাংশ। এর মধ্যে বিদায়ী অর্থবছরেই রাজ্যটি চাল রফতানি থেকে
আয় করেছে ২৪১ কোটি মার্কিন ডলার। পণ্যটির শীর্ষ রফতানিকারক রাজ্যের তালিকায় এর পরের
অবস্থানে রয়েছে গুজরাট। গত অর্থবছরে রাজ্যটি চাল রফতানি থেকে ১১০ কোটি ৬০ লাখ ডলার
আয় করেছে। তবে রাজ্যটি থেকে পণ্যটির রফতানিতে প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০১৫-১৬
থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মধ্যে এ খাতে গুজরাটের সিএজিআর বেড়েছে ৪৭ শতাংশ। এছাড়া ভারতের
দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ ও অন্ধ প্রদেশ থেকেও প্রচুর চাল রফতানি হয়।
মূলত খরিফ শস্য (আগস্ট-নভেম্বর) থেকে একটি মৌসুমের
সম্পূর্ণ চাল রফতানি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। খরিফের পরের চার মাসের (ডিসেম্বর-মার্চ) মধ্যে দেশটির বার্ষিক
মোট চাল রফতানির ৪০ শতাংশ রফতানি হয়ে যায়। চলতি অর্থবছরে দেশটি থেকে খাদ্যপণ্যটির রফতানি
অন্যান্য অর্থবছরের তুলনায় অনেক কমতির দিকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে আগের অর্থবছরের
একই সময়ের তুলনায় ভারতের চাল রফতানি ২৭ শতাংশ কমেছে। এছাড়া ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রফতানি
নিম্নমুখী ছিল।
ড্রিপ ক্যাপিটালের সহপ্রতিষ্ঠাতা
ও সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পুশকার মুকেওয়ার জানান, চলতি অর্থবছরে সবচেয়ে
ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারতের বাসমতি চাল রফতানি। পণ্যটির শীর্ষ ক্রেতা দেশ ইরান। তবে এ বছরের
শুরুতেই তেহরানের পর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। এতে ইরানের বাজারে ভারতীয়
বাসমতি চাল রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত
দেশটি থেকে ইরানে পণ্যটির রফতানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
ভারতীয় চালের অন্যান্য শীর্ষ
গন্তব্য দেশে একই পরিস্থিতি বিদ্যমান। সংযুক্ত আরব আমিরাতে পণ্যটির রফতানি কমেছে ৩৩
শতাংশ। এছাড়া নেপাল, ইয়েমেন, সেনেগাল ও বাংলাদেশে ভারতীয় চালের রফতানি যথাক্রমে ২৩, ২, ৯০ ও ৯৪ শতাংশ কমেছে।
তবে কয়েকটি দেশে পণ্যটির রফতানিতে চাঙ্গা ভাব বজায় রয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবে পণ্যটির
রফতানি বেড়েছে ৪ শতাংশ। এছাড়া ইরাক, বেনিন ও যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় চালের রফতানি যথাক্রমে ১০, ৮ ও ৪ শতাংশ করে
বেড়েছে।









