বৃহত্তর সিলেটের সব সীমান্ত দিয়ে পণ্য আমদানি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন জেলার আমদানিকারকরা। গতকাল সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কনফারেন্স হলে চেম্বার নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ ঘোষণা দেন তারা। আমদানিকারকরা জানান, কাস্টমস ও ভ্যাট কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত রাজস্বের চাপে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা আমদানি চালু করবেন না।

সভায় আমদানিকারকরা বলেন, ‘‌কিছুদিন ধরে সিলেটের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত রাজস্ব পরিশোধে চাপ দিচ্ছে। ব্যবসায়ীরা এ ব্যাপারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় বসেও কোনো লাভ হয়নি। নিয়মবহির্ভূতভাবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আমদানীকৃত পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ হারে মূল্যবৃদ্ধি করে তার ওপর ভ্যাট দেয়ার জন্য আমদানিকারকদের চাপ দিচ্ছে। কিন্তু ক্রয়কৃত মূল্য থেকে ৫০ শতাংশ হারে মূল্যবৃদ্ধি করে পণ্য বিক্রি করা কখনই সম্ভব নয়।

আমদানিকারকরা আরো জানান, চুনাপাথর টনপ্রতি ১০ ডলার করে ও বোল্ডার পাথর ৮ ডলার করে এলসি খোলা হলেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এতদিন চুনাপাথরের অ্যাসেসমেন্ট রেট ১১ ডলার ৫ সেন্ট এবং বোল্ডার পাথরের অ্যাসেসমেন্ট রেট ১১ ডলার করে নির্ধারণ করে রাজস্ব আদায় করেছে। কিন্তু এখন হঠাৎ করে চুনাপথরের অ্যাসেসমেন্ট রেট টনপ্রতি ১৩ ডলার ৫ সেন্ট এবং বোল্ডার পাথরের অ্যাসেসমেন্ট রেট টনপ্রতি ১৩ ডলার নির্ধারণে আমদানিকারকদের চাপ দেয়া হচ্ছে। তা না করা হলে আমদানিকারকদের মামলা-মোকদ্দমার ভয় দেখাচ্ছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে অনেক আমদানিকারকের ওপর মামলাও করা হয়েছে।

এ সমস্যা সমাধানে আমদানিকারকরা সভায় সিলেট চেম্বারের সহযোগিতা কামনা করেন। সমস্যা সমাধানের আগ পর্যন্ত তারা বৃহত্তর সিলেটের সব সীমান্ত দিয়ে পণ্য আমদানি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।

এ ব্যাপারে সিলেট চেম্বার সভাপতি তাহমিন আহমদ বলেন, ‘‌ব্যবসায়ীদের দেয়া ভ্যাট-ট্যাক্স ও রাজস্বের মাধ্যমে সরকারের ব্যয় নির্বাহ হয়। তাই ব্যবসায়ীদের সুবিধা-অসুবিধা দেখা সরকারের একান্ত দায়িত্ব। আমদানিকারকদের সব সমস্যা আলোচনাক্রমে নিরসনে আমরা ১০ আগস্ট সিলেট চেম্বারের পক্ষ থেকে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারকে আলোচনা সভার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কাস্টমস কমিশনার এখন পর্যন্ত চিঠির উত্তর দেননি। উল্টো কাস্টমস কর্মকর্তারা আমদানিকারকদের হয়রানি করে যাচ্ছেন। আশা করি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমরা বিষয়টির সুরাহা করতে পারব।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট চেম্বারের সহসভাপতি মো. আতিক হোসেন, পরিচালক মুজিবুর রহমান মিন্টু, সারোয়ার হোসেন ছেদু, সুনামগঞ্জ চেম্বারের পরিচালক মো. খসরুল আলম প্রমুখ।