এয়ারবাস ক্রমে ভারতে তার শিল্প সম্পর্কিত উপস্থিতি বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। সম্প্রতি টুইটারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের ছবি শেয়ার করে ইউরোপের এ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী গুইলাম ফৌরি এ কথা উল্লেখ করেন।
তিনি লেখেন, ‘আমরা বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচলের সংখ্যা বৃদ্ধিকে সমর্থন করে যাব এবং ভারতে আমাদের শিল্প সম্প্রসারণ বৃদ্ধি করব।’
সেপ্টেম্বরে বোয়িংয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইকোনমিক টাইমসকে বলেছিলেন, ভারত মহামারী চলাকালীন স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করেছে। তাই বোয়িংসহ উড়োজাহাজ নির্মাতা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান দেশটিতে সরবরাহ বাড়াতে পারে।
বিশ্বের বৃহত্তম বেসামরিক উড়োজাহাজ নির্মাতা এবং বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল এয়ারলাইনস বাজারের নেতাদের মধ্যকার বৈঠকটি অবশ্য ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ার জেট ক্রয় সম্পর্কিত বিষয়ের সঙ্গে মিলে যায়। তবে সূত্র বলছে যে সফরের মূল লক্ষ্য এটি ছিল না।
নভেম্বরে নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়ের জন্য এয়ারবাস ও বোয়িংয়ের সঙ্গে আলোচনা চালায় টাটা গ্রুপের মালিকানা প্রতিষ্ঠান এয়ার ইন্ডিয়া। ভারতের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়িক গোষ্ঠীটি গত জানুয়ারিতে এয়ার ইন্ডিয়ার অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে। এরপর পুরনো উড়োজাহাজের বহর আধুনিকায়ন, প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক হিসেবে দাঁড় করাতে এবং পরিষেবা উন্নতির জন্য কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বর্তমানে এয়ারবাসের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে তারা। তবে এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে ছয়টি এ৩৫০ উড়োজাহাজ সরবরাহের মাধ্যমে নিশ্চয়তা বৃদ্ধি করতে চায় এয়ারবাস, যা মূলত রাশিয়ার সবচেয়ে বড় এয়ারলাইনস অ্যারোফ্লোটের জন্য প্রস্তুত করা হয়। যদিও এটি মূল ক্রয়াদেশে অন্তর্ভুক্ত কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়।
গত সপ্তাহে রয়টার্স প্রতিবেদন প্রকাশ করে যে এয়ার ইন্ডিয়া বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স জেট মডেল থেকে প্রায় ১৯০টি ও ৭৮৭ ড্রিমলাইনার থেকে ৩০টি উড়োজাহাজ ক্রয় করতে যাচ্ছে; যা তাদের মোট ৫০০টির কাছাকাছি উড়োজাহাজ ক্রয় প্যাকেজের অংশ। তবে চুক্তিতে কয়েকটি ৭৭৭এক্স জেটও থাকতে পারে। যদিও এ বাবদ কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে সে ধরনের কোনো রূপরেখা ঘোষণা করা হয়নি।
তবে চুক্তিপত্রে আমানত ও মূল্যস্ফীতির মতো কারণগুলোর জন্য শেষ মুহূর্তে সবকিছু ভেস্তে যেতে পারে বলেও সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে এয়ারবাসের পক্ষ থেকে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়, তাছাড়া টাটা গ্রুপের পক্ষ থেকেও কেউ এ সম্পর্কে কথা বলতে রাজি হয়নি। এদিকে অক্টোবরে টাটা গ্রুপ ও এয়ারবাস বলেছিল যে তারা ভারতে সি-২৯৫ সামরিক পরিবহন উড়োজাহাজ তৈরি করতে যাচ্ছে।
প্রতিরক্ষা খাতে বিশ্বের বৃহত্তর আমদানিকারকদের মধ্যে ভারত অন্যতম। দেশটি বিদেশী সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেড—তারাই বর্তমানে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য উড়োজাহাজ তৈরি করে।










