আগস্টে খুচরা বিক্রি কমেছে। এর মধ্যে আবার ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের বিনিময় হার ৩৭ বছরের সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় ব্রিটিশ অর্থনীতি এরই মধ্যে মন্দায় পড়ে গিয়েছে বলে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাজ্যে প্রকৃত আয় ক্রমবর্ধমানভাবে নিম্নমুখী রয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক অব ইংল্যান্ড আগামী সপ্তাহে সুদের হার বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের বিনিময় হার ১ শতাংশেরও বেশি কমে গিয়েছে। এতে ১ পাউন্ড সমান ১ ডলার ১৩ সেন্ট। এ হার ১৯৮৫ সালের পর সর্বনিম্ন। এ খবরের পর ব্রিটিশ পুঁজিবাজারে ধস নামে। আগস্টে লন্ডন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাজারমূল্যে শীর্ষ ১০০ প্রতিষ্ঠানের পয়েন্ট ৭ হাজার ৫৫০ থেকে দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৭ হাজার ২৫৮ পয়েন্টে নেমেছে। ইউরোপীয় পুঁজিবাজারগুলোও পয়েন্ট হরিয়েছে।
বিশ্বব্যাংক সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান সুদের হার আগামী বছর বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের মতো রাজস্বের জন্য বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতিগুলোয় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এদিকে সর্বশেষ প্রকাশিত সরকারি তথ্যে উঠে এসেছে, আগস্টে ব্রিটিশ ভোক্তারা আশঙ্কার চেয়েও বেশি ব্যয় কমিয়েছেন। যখন গ্রেট ব্রিটেনে খুচরা বিক্রির পরিমাণ ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে গিয়েছে। অর্থনীতিবিদরা দশমিক ৫ শতাংশ কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। গত মাসে খুচরা বিক্রিতে পতন অর্থনীতিজুড়ে বিস্তৃত খাতের চিত্র তুলে ধরেছে। অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস (ওএনএস) জানিয়েছে, পেট্রল স্টেশন, সুপারমার্কেট, পোশাক ও আসবাবপত্রের দোকানগুলোয় বিক্রি কমে গিয়েছে। সর্বশেষ ২০২১ সালের জুলাইয়ে খুচরা বিক্রিতে পতন হয়েছিল। সে সময় কভিডজনিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার পর ব্রিটিশ নাগরিকরা বার ও রেস্তোরাঁয় স্থানান্তরিত হয়েছিল।
ওএনএস বলেছে, ক্রমবর্ধমান দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় গ্রেট ব্রিটেনের খুচরা বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, লক্ষণগুলো মন্দার ইঙ্গিত দিচ্ছে। অর্থাৎ মনে হচ্ছে ব্রিটিশ অর্থনীতি মন্দায় পড়ে গিয়েছে।
অর্থনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের একজন অর্থনীতিবিদ অলিভিয়া ক্রস বলেন, জ্বালানি বিল কমাতে সরকারের ১৫ হাজার কোটি পাউন্ড প্রণোদনার পর যুক্তরাজ্যের মন্দা সংক্ষিপ্ত ও অগভীর হতে পারে। তবে সব সূচক দেখায় যে, এরই মধ্যে ব্রিটিশ অর্থনীতিতে সংকোচন শুরু হয়ে গিয়েছে।
তিনি বলেন, আগস্টের খুচরা বিক্রির পরিমাণে ১ দশমিক ৬ শতাংশ পতন আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করছে যে, আমরা এরই মধ্যে মন্দার মধ্যে রয়েছি। আগামী মাসগুলোয় জীবনযাত্রার সংকট আরো গভীর হওয়ার কারণে খুচরা বিক্রি সম্ভবত নিম্নমুখী থাকবে। তার পরও কেন্দ্রীয় ব্যাংক আক্রমণাত্মকভাবে সুদের হার বাড়াতে থাকবে।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকস জানিয়েছে, অর্থনীতিতে অতিরিক্ত ১৫ হাজার কোটি পাউন্ডের প্রণোদনা ব্যাংক অব ইংল্যান্ডকে আগের অনুমান থেকে সুদের হার আরো ১ শতাংশীয় পয়েন্ট যোগ্য করতে বাধ্য করবে। অর্থাৎ ব্যাংকের সুদের হার বর্তমানের ১ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশে উন্নীত হবে। এমনটা হলে ঋণ নেয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বন্ধকি ঋণ নেয়া ভোক্তারা বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে।
ইওয়াই আইটেম ক্লাবের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মার্টিন বেক বলেন, আগামী ১২ বা তারও বেশি সময়ের মধ্যে প্রকৃত পারিবারিক আয়ে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটবে। পাশাপাশি বেকারত্ব হার বাড়ারও আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া খুচরা বিক্রেতারা বর্তমানে যে মন্দার মধ্যে নিজেদের খুঁজে পাচ্ছেন তা চলতি বছরের বাকি সময় এবং ২০২৩ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।










