নভেম্বরে কানাডার অর্থনীতিতে স্বল্পসংখ্যক নতুন কর্মসংস্থান যুক্ত হয়েছে। কিন্তু এ সময়ে সেখানে বেকারত্ব প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কমেছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স।

গত মাসে কানাডায় নতুন করে ১০ হাজার ১০০টি নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে। সংখ্যাটা পূর্বাভাসে বলা ৫ হাজার সংখ্যার থেকে অনেক বেশি। স্ট্যাটিসটিকস কানাডার তথ্য বলছে, এ সময়ে বেকারত্বের হার নেমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশে। যেখানে পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়াবে ৫ দশমিক ৩ শতাংশে।

এর আগের অক্টোবরে ১ লাখ ৮ হাজার ৩০০টি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়। ব্যাংক অব কানাডার নীতিনির্ধারণী সভার আগে আগে এ ধরনের তথ্য পাওয়া গেল। গত মার্চ থেকে সুদহার ৩৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিনিয়োগ ব্যাংক টিডি সিকিউরিটিজের চিফ কানাডা স্ট্র্যাটেজিস্ট অ্যান্ড্রু কেলভিন বলেন, ‘আমার মনে হয় নতুন কর্মসংস্থানের নিম্নমুখী প্রবণতা বর্তমান অর্থনীতির অবস্থারই একটি প্রমাণ। অর্থনীতি ধীর হয়ে যাওয়ায় এখন সুদের হার বৃদ্ধির প্রবণতাও ধীর করা হবে। হয়তো আগামীতে ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি দেখা যাবে। তবে আরো বেশি হারে বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

কানাডার আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ডেসজারডিনসের পরিচালক ও ম্যাক্রো স্ট্র্যাটেজির প্রধান রয়েস মেন্ডেস বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রের সুযোগের ক্ষেত্রে পরিমিত অগ্রগতি এবং বেতন বৃদ্ধির কোনো ধরনের লক্ষণের অনুপস্থিতির মধ্যে আমাদের প্রত্যাশা, ব্যাংক অব কানাডার সুদহার আগামী সপ্তাহে ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি পাবে।’

বিএমও ক্যাপিটাল মার্কেটের প্রধান অর্থনীতিবিদ ডগ পোর্টার বলেন, ‘এমন তথ্যের কথা জানাই ছিল। কিন্তু এর থেকে বোঝা যায় শ্রমবাজার আরো কঠিন থাকবে এবং মোটের ওপর আরো কঠোর হবে। সেই সঙ্গে সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট হারে বৃদ্ধি পাবে।’

শ্রমবাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী বেশির ভাগ বিশ্লেষক মনে করছেন, ব্যাংক অব কানাডা ডিসেম্বরের সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়াবে।

স্ট্যাটিসটিকস কানাডা বলছে, নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কর্মক্ষম নারীদের অংশগ্রহণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। নভেম্বরে সেটা ছিল ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ। স্থায়ী চাকরির ক্ষেত্রে ঘণ্টাপ্রতি বেতন নভেম্বরে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। আগের মাসে বেতন বাড়ার হার ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। তাছাড়া চাকরিপ্রাপ্তির বেশির ভাগই হয়েছে পূর্ণকালীন চাকরি বা পরিষেবা খাতের ক্ষেত্রে। সেখানে অংশগ্রহণ আগের মাসে ছিল ৬৪ দশমিক ৯ শতাংশ, নভেম্বরে সেটা নেমে আসে ৬৪ দশমিক ৮ শতাংশে।