ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকে অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অবস্থান করছেন ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল। এ সময় তিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একটি সংক্ষিপ্ত সাক্ষাত্কার দিয়েছেন। এতে তিনি চলতি বছর বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোকপাত করেছেন। বছরের মাঝামাঝি সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কেমন হতে পারে, সেটাও উঠে এসেছে ফাতিহ বিরলের ভাষ্যে। বণিক বার্তার পাঠকদের জন্য সংক্ষিপ্ত এ আলোচনা তুলে ধরা হলো—
২০২০ সালে বৈশ্বিক জ্বালানি পণ্যের বাজারে মূল চ্যালেঞ্জ কি হতে পারে?
চলতি বছর বৈশ্বিক জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ প্রাচুর্য বাজার পরিস্থিতির জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অনেক বড় বড় সংকট দেখা গেছে। মার্কিন বিমান হামলায় ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানির হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে ইরান ইস্যুতে অশান্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য।
লিবিয়ার অন্যতম বৃহত্তম তেল খনির কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ হয়ে গেছে। আগে এসব কর্মকাণ্ডের কারণে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিত। তবে এবার এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি। এর প্রধান কারণ সরবরাহ প্রাচুর্য। বিশেষত সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দাম সাময়িক বাড়লেও পরক্ষণেই কমে এসেছে।
আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ ইরাকের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। সরকারবিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি ইরাকের ভূমিতে বিদেশী শক্তিগুলোর হামলা দেশটিকে ক্রমে অস্থির করে তুলছে। ওপেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে আগামী দিনগুলোয় ইরাকের পরিস্থিতি জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণে বড় ধরনের প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে।
একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন বড় একটি চ্যালেঞ্জ। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিপরীতে জ্বালানি কোম্পানিগুলোর পরিবর্তনশীল নীতি জ্বালানি পণ্যের বাজারে ভূমিকা রাখবে।
দীর্ঘমেয়াদে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কি ব্যারেলপ্রতি ৬৫ ডলারের আশপাশে অবস্থান করতে পারে?
আমরা আশা করতেই পারি। মার্চের শেষে ওপেকের উত্তোলন হ্রাসসংক্রান্ত বৈশ্বিক চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। তবে চুক্তিটি পুনরায় নবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক উত্তোলনে কিছুটা লাগাম পড়বে। এ পরিস্থিতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যটির দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৫ ডলারের আশপাশে সীমাবদ্ধ রাখতে পারে। তবে এরই মধ্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহে দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল উদ্বৃত্ত রয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে না পারলে জ্বালানি পণ্যটির দরপতন ঘটতে পারে। তবে বছরজুড়ে ইরান কিংবা ইরাক ইস্যুর মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের একক হিসেবে কাজ করবে।
চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি কেমন থাকতে পারে?
আশা করছি, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক গড় চাহিদা দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল বাড়তে পারে। বিশেষত উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোয় জ্বালানি পণ্যটির চাহিদায় সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি বজায় থাকবে। এর প্রভাব পড়বে সামগ্রিক বাজারে।
এর বিপরীতে সরবরাহ খাতও চাঙ্গা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, নরওয়ের মতো নন-ওপেক দেশগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যটির সরবরাহ বাড়াতে পারে। এর পরিমাণ দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়ে যেতে পারে। এটা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।









