রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের এজেন্ট হয়ে দুই শতাধিক উদ্যোক্তা বিপদে পড়েছেন। ব্যাংকটির পক্ষ থেকে যেসব সুযোগ-সুবিধা এজেন্টদের দেয়ার কথা ছিল সেগুলো পাওয়া যাচ্ছে না। সোনালী ব্যাংকের সার্ভারও ঠিকমতো কাজ করছে না। আরো নানা সংকটে ব্যাংকটির এজেন্টদের লোকসান ক্রমাগত বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ এজেন্টরা গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনও করেছেন।

সোনালী এজেন্ট ব্যাংকিং অ্যাসোসিয়েশনের (সাবা) পক্ষ থেকে মানববন্ধনটি আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে সংগঠনটির সভাপতি যতীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, ‘আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সমস্যার সমাধান না করলে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘‌সোনালী ব্যাংক আমাদের নিয়োগ দেয়ার সময় যেসব সরঞ্জাম দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার কিছুই দেয়নি। এমনকি সবসময় ব্যাংকের সার্ভার ডাউন থাকে। সার্ভার ঠিকমতো কাজ না করায় আমরা সেবা প্রদানে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। এতে গ্রাহকরা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন।’

মানববন্ধনে সোনালী এজেন্ট ব্যাংকিং অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব বাবু বলেন, ‘‌তিন-চার মাসের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তারা পুলিশ ভ্যারিফিকেশনসহ সব ধরনের কার্যক্রমই পরিচালনা করেছে। এরপর আমাদের ১ হাজার ২০০ এজেন্ট থেকে ৪৭৮ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো কোনো নোটিস ছাড়াই সেখান থেকে মাত্র ২২৭ জনকে রেখে বাকিদের বাদ দিয়ে দেয়া হয়। এরপর আমাদের প্রধান কার্যালয়ে ডেকে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে।’

সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নেয়ামতুল্লাহ বলেন, ‘‌আমরা তরুণ উদ্যোক্তা হওয়ার আশায় সোনালী ব্যাংকের এজেন্ট হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সমন্বয়হীনতা, সার্ভার জটিলতা ও সরঞ্জাম বিতরণে ব্যাপক দুর্নীতির কারণে আমাদের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আফজাল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সার্ভার এবং আমাদের মূল ব্যাংকিংয়ের সার্ভার একই। এজেন্টদের সমস্যা হলে ব্যাংকের শাখাগুলোরও সমস্যা হওয়ার কথা। তবে মাঝেমধ্যে সার্ভার ডাউন থাকতে পারে। এসব এজেন্ট নিয়োগ দেয়া হয়েছে ২০২০ ও ২০২১ সালে। এজেন্ট নিয়োগ ও সরঞ্জাম বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হয়ে থাকলে তারা যেকোনো সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে অভিযোগ জানাতে পারে। আমরা জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’