ভারতের পরিবারগুলোর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টন স্বর্ণ। এটি দেশটির অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ শক অ্যাবজর্বার বা অভিঘাত প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করছে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের। ভারতের বৃহৎ বিনিয়োগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইআইএফএল ক্যাপিটালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গৃহে মজুদ বিপুল পরিমাণের স্বর্ণের বাজারমূল্য বর্তমানে ভারতের জিডিপির প্রায় ৮০ শতাংশের সমতুল্য। দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আন্তর্জাতিক বাজারে এ ধাতব পণ্যের দাম বাড়ার কারণে এগুলোর সম্পদমান আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। খবর দ্য হিন্দু।
চলমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝে গৃহস্থালি স্বর্ণ মূলত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, মুদ্রার মান বজায় রাখা এবং আর্থিক প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করছে বলে অভিমত বিশ্লেষকদের। তারা বলছেন, ভারতীয় পরিবারগুলোর কাছে প্রচুর স্বর্ণ থাকলেও এর খুব সামান্য অংশই ঋণ বাবদ জামানত হিসেবে ব্যবহার হয়। ফলে স্বর্ণভিত্তিক ঋণের সুযোগ এখনো অনেক বেশি, যা পরিবারের জন্য নিরাপদ ও সস্তা ঋণের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে এবং খরচ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্ববাজারে দ্রুত দাম বেড়ে যাওয়ায় রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার স্বর্ণ কেনার পরিমাণ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। আরবিআই ও গৃহস্থালি স্বর্ণের সমন্বয় স্থানীয় মুদ্রা রুপির অবমূল্যায়ন ঠেকানোয় সাহায্য করেছে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের নিরাপদ অবস্থান এবং আরবিআইর স্বর্ণের মজুদ বাড়ার ফলে নীতিনির্ধারকরা এখন মুদ্রার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে আরো স্বাধীনতা পাচ্ছেন বলে মনে করছে আইআইএফএল ক্যাপিটাল।
ভবিষ্যতে জামানত হিসেবে স্বর্ণের ব্যবহার আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো (এনবিএফসি) এ সম্পদ ব্যবহার করে নিরাপদ ঋণ বাড়াতে পারবে, যা পদ্ধতিগত ঝুঁকি বাড়াবে না। ফলে আয় কমার সময় পরিবারগুলো সহজে খরচ সামলাতে পারবে।
বিশেষজ্ঞরা গৃহস্থালি স্বর্ণকে ‘গোপন মূলধন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ সম্পদ সংকটের সময় ব্যবহার করা যায়, কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নতির সময়ও ধরে রাখা যায়। ভারতের গৃহস্থালি স্বর্ণের কম ব্যবহার এ সম্ভাবনাকে আরো শক্তিশালী করেছে।








