বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদনকারী দেশ মালয়েশিয়ায় পণ্যটির মজুদ কমেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটিতে পণ্যটির মজুদ কমে আড়াই বছরের বেশি সময়ের সর্বনিম্নে নেমেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন কমার জেরে মজুদে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। খবর স্টার অনলাইন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পণ্যবাজার সম্পর্কিত একটি বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে, জানুয়ারিতে মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের মজুদ কমে ১৭ লাখ ৬০ হাজার টনে নেমেছে, যা আগের মাসের তুলনায় ১২ শতাংশ কম। একই সঙ্গে তা ২০১৭ সালের জুনের পর পণ্যটির সর্বনিম্ন মজুদ।
রয়টার্সের জরিপে জানানো হয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত সারের ব্যবহার হ্রাসে মালয়েশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদনে মন্দা ভাব বজায় রয়েছে। শুষ্ক আবহাওয়া পামের তেল উৎপাদন সক্ষমতা কমিয়ে ফেলেছে। এদিকে সারের অপ্রতুল ব্যবহারে পণ্যটির ফলন কমেছে। সব মিলিয়ে দেশটিতে ভোজ্যতেলটির উৎপাদন কমে গেছে। বিদায়ী বছরে মালয়েশিয়ায় পণ্যটির উৎপাদন কমে প্রায় চার বছরের সর্বনিম্নের কাছাকাছি নেমে গিয়েছিল।
জানুয়ারিতে দেশটিতে সব মিলিয়ে ১২ লাখ ১০ হাজার টন পাম অয়েল উৎপাদন হয়েছে, আগের মাসের তুলনায় যা ৯ শতাংশ কম। একই সঙ্গে পণ্যটির উৎপাদনের এ পরিমাণ ২০১৬ সালের মার্চের পর সর্বনিম্ন।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পাম অয়েল অ্যানালিটিকসের সহপ্রতিষ্ঠাতা সাথিয়া ভারকা জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে এমনিতেই মালয়েশিয়ায় পামের ফলন কমে গেছে। এছাড়া চান্দ্র নববর্ষের ছুটির কারণে দেশটিতে মিলিং কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকায় পাম অয়েল উৎপাদন আরো নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে।
মজুদ, উৎপাদন হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে এ সময়ে দেশটি থেকে পণ্যটির রফতানিও কমে গেছে। জানুয়ারিতে মালয়েশিয়া থেকে সব মিলিয়ে ১২ লাখ ৮০ হাজার টন পাম অয়েল আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি হয়েছে, আগের মাসের তুলনায় যা ৮ দশমিক ২ শতাংশ কম। মূলত দেশটির পাম অয়েলের শীর্ষ ক্রেতা ভারত ক্রয় কমিয়েছে, যা সামগ্রিক রফতানিতে প্রভাব ফেলেছে।
জানুয়ারিতে মালয়েশিয়া থেকে ভারতে সব মিলিয়ে ৪০ হাজার ৫০০ টন পাম অয়েল রফতানি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ রফতানির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১ হাজার ৪৫০ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা দেশটি থেকে পণ্যটির ক্রয় ১ লাখ ৬০ হাজার ৯৫০ টন কমিয়েছেন।
মূলত কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত সরকারের নীতির বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার নীতিগত অবস্থান এবং ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের সমালোচনা করায় দেশটি থেকে পাম অয়েল আমদানি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি দেশটি থেকে পাম অয়েল আমদানি পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ভারত। এতে মালয়েশিয়ার প্রধান এ রফতানি খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।









