চলতি বছরের নভেম্বরে ভারতের জ্বালানি রফতানি বেড়েছে। দেশটিতে অক্টোবরের তুলনায় গত মাসে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন কার্যক্রম বৃদ্ধি এক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। অক্টোবরে অবশ্য দীপাবলি উৎসবের জন্য ডিজেলের চাহিদা কিছুটা কম ছিল। এ বিষয়ও নভেম্বরের প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। ভারতের জ্বালানি তেলবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর অয়েলপ্রাইসডটকম।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ভারতের জ্বালানি আমদানির পরিমাণও আগের মাসের তুলনায় কমেছে। বিপরীত দিকে আগস্টের পর এপ্রিল-নভেম্বর সময়ে ভারত থেকে গত মাসে জ্বালানি রফতানির পরিমাণ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উঠেছে। দেশটি গত মাসে ৫৬ লাখ ৪০ হাজার টন জ্বালানি রফতানি করেছে, যা অক্টোবরের ৪৪ লাখ ৭০ হাজার টনের চেয়ে বেশি।

ভারতে পরিশোধন কার্যক্রম বৃদ্ধি ও সমুদ্রপথে রাশিয়ান জ্বালানি তেল রফতানিতে ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা দেশটির জ্বালানি রফতানি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ান জ্বালানি তেল আমদানি নিষিদ্ধ করার প্রভাবে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ভারত থেকে ইউরোপে জ্বালানি তেলের রফতানি বাণিজ্য চাঙ্গা হতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে নভেম্বরে ভারতের জ্বালানি আমদানি কমে ৪১ লাখ ৫০ হাজার টনে নেমেছে। এর আগের মাস অক্টোবরে দেশটি ৪৪ লাখ ৩০ হাজার টন জ্বালানি আমদানি করেছিল। গত মাসে ভারতের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিও অক্টোবরের তুলনায় দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

চলতি বছরের অক্টোবরের তুলনায় কমলেও বছরওয়ারি হিসেবে জ্বালানি আমদানি বেড়েছে ভারতের। ২০২২ সালের নভেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের একই মাসে নয়াদিল্লির জ্বালানি আমদানি বেড়েছে ৩ শতাংশ।

ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিকারক। ইউরোপ ২০২২ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর সাশ্রয়ী মূল্যে রুশ তেলের শীর্ষস্থানীয় ক্রেতা হয়ে উঠেছে ভারত। 

সম্প্রতি রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক বক্তব্যে বলেছেন, ‘২০২৩ সালে রাশিয়া যে পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করেছে তার অর্ধেক নিয়েছে চীন আর দ্বিতীয় শীর্ষ ক্রেতা ছিল ভারত।’

আলেকজান্ডার নোভাক বলেছেন, ‘এ বছর রাশিয়ান রফতানির ৪৫-৫০ শতাংশ কিনেছে চীন। আর ভারত কিনেছে প্রায় ৪০ শতাংশ।’ অয়েল প্রাইস ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভারতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি বাড়ার বিষয়টি একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ২০২২ সালের আগে ভারতে কোনো জ্বালানি তেল রফতানি করত না রাশিয়া। আর বর্তমানে রাশিয়াই হয়ে উঠেছে ভারতের প্রধান জ্বালানি তেল সরবরাহকারী।

রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী নোভাক দাবি করেছেন, ‘আগে যদি আমাদের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের ৪০-৪৫ শতাংশ ইউরোপে রফতানি হতো, এ বছর সেই সংখ্যা ৪-৫ শতাংশ কমে আসতে পারে।’

মূলত ভারতের হাত ঘুরে ইউরোপের বাজারে পরোক্ষভাবে রাশিয়ান জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত ছিল। ফলে রাশিয়ান জ্বালানি পণ্য আমদানিতে ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা সফল হয়নি বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।