আগামী বছর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ২৯ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ২০ হাজার কোটি ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছে জাপান। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করাসহ ব্যাংক অব জাপান (বিওজে) সুদের হার নিম্ন পর্যায়ে রাখার ন্যায্যতা দিতে সহায়তা করতে পারে এ প্যাকেজ। আজ জাপান সরকার এ প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে। খবর রয়টার্স।

এর আগে চলতি মাসে শুরুতে জ্বালানি ও খাদ্যের উচ্চমূল্য থেকে অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবেলায় প্রণোদনা দেয়ার ঘোষণা দেয় জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সরকার। এটি কভিডের প্রভাব কাটিয়ে দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ক্ষমতাসীন দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং সরকারি কয়েকজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানায়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বড় বাজেটের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এ প্রণোদনার আকার ২০ হাজার কোটি ডলার। 

প্রণোদনা প্যাকেজের খসড়ার তথ্য অনুসারে, এ প্রণোদনার অর্থের মধ্যে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গৃহস্থালির বিদ্যুৎ বিল প্রায় ২০ শতাংশ কমানোর জন্য ভর্তুকি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

দেশটির অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা আশা করছেন, ভর্তুকি কোর ভোক্তা মূল্যস্ফীতি কমিয়ে দেবে। ভোক্তা মূল্য সূচক তৈরি করে এমন উপাদানগুলোর মধ্যে ভর্তুকি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিলগুলোকে প্রভাবিত করবে।

ডাইওয়া সিকিউরিটিজের বিশ্লেষকরা একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলেন, প্রযুক্তিগতভাবে তারা ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) জাপানের মূল্যস্ফীতির হার কমিয়ে দেবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশটির কোর ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ২ শতাংশের মধ্যে থাকবে এবং ভর্তুকি দেয়ার কারণে আগামী মার্চের মধ্যে এটি ১ দশমিক ৭ শতাংশে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে এসএমবিসি নিক্কো সিকিউরিটিজও জানায়, বিদ্যুৎ ও গ্যাসে ভর্তুকি আগামী জানুয়ারিতে আগের বছরের জানুয়ারির তুলনায় কোর ভোক্তা মূল্যস্ফীতি প্রায় ১ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট কমিয়ে দেবে।

প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার দিনটি শুক্রবার হওয়ায় বিওজে নতুন প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্যাকেজের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে না। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক আজ থেকেই সুদের হার নিম্ন পর্যায়ে রাখতে প্রস্তুত এবং সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতি ক্ষণস্থায়ী করতে ব্যাপক হারে প্রণোদনা দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বিওজে। এদিকে ব্যয় বৃদ্ধি সরকারকে অতিরিক্ত বন্ড ইস্যুতে বাধ্য করতে পারে এবং এরই মধ্যে আর্থিক চাপের সম্মুখীন হয়েছে জাপান।