মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েল আমদানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ভারত। মূলত কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত সরকারের নীতির বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার নীতিগত অবস্থান এবং ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের সমালোচনা করায় দেশটি থেকে পাম অয়েল আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি। এতে মালয়েশিয়ার প্রধান এ রফতানি খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও চীনের বাইরে মালয়েশীয় পাম অয়েলের বড় ক্রেতা ভারত। তবে ভারত সরকার মালয়েশিয়া থেকে না কিনলেও ইন্দোনেশিয়া থেকে পাম অয়েল আমদানি অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে। খবর জাকার্তা পোস্ট ও বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেইন ট্রেডের (ডিজিএফটি) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়া থেকে পরিশোধিত পাম অয়েল ও পাম অলিন আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান উদার নীতিতে লাগাম টানা হয়েছে। দেশটি থেকে উল্লিখিত দুটি পণ্য সীমিত পরিসরে আমদানি করতে হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আলাদা করে লাইসেন্স নিতে হবে।
ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভোজ্যতেল আমদানিকারক দেশ। প্রতি বছর ভারতীয় আমদানিকারকরা প্রায় দেড় কোটি টন ভোজ্যতেল আমদানি করেন। এর মধ্যে পাম অয়েলের পরিমাণ প্রায় ৯০ লাখ টন। বাকি ৬০ লাখ টন সয়াবিনসহ অন্যান্য ভোজ্যতেল। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া পাম অয়েল উৎপাদন ও রফতানিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুটি দেশ। বৈশ্বিক পাম অয়েল বাজারের ৯০ শতাংশের বেশি হিস্যা এ দুটি দেশের দখলে। মালয়েশিয়া প্রতি বছর ১ কোটি ৯০ লাখ টন পাম অয়েল উৎপাদন করে আর ইন্দোনেশিয়ায় উৎপাদিত হয় বছরে ৪ কোটি ৩০ লাখ টন। উৎপাদিত পাম অয়েলের সিংহভাগ রফতানি করে দেশ দুটি। এ কারণে পাম অয়েল খাতকে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি ধরা হয়।
কাশ্মীরে ভারতীয় নীতির বিরুদ্ধে আগে থেকেই সরব মালয়েশিয়া। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভারতের বিরুদ্ধে এ নীতিকে ‘অবৈধ দখলদারিত্ব’ উল্লেখ করে সোচ্চার হয়েছে দেশটি। গত মাসে ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। এ কারণে দেশটি থেকে পাম অয়েল আমদানি বন্ধ করেছে ভারত, এমনটাই মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ভারতের সলভেন্ট এক্সটাক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলছে, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে পাম অয়েলের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকারীরা লাভবান হবেন। আর মালয়েশিয়া থেকে পণ্যটির আমদানি বন্ধ হলেও ইন্দোনেশিয়া থেকে অব্যাহত থাকবে। এ কারণে বাজারে এ সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা খুব কম। দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকতে পারে।









