বৈশ্বিক কৃষিপণ্য উৎপাদন, ফলন ও আবাদের ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইএসডিএ)। এতে বলা হয়েছে, ২০১৯-২০ মৌসুমে বাংলাদেশে ভুট্টা উৎপাদন ও ফলনে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে এ সময়ে কৃষিপণ্যটির আমদানিও বাড়বে।
বাংলাদেশে ভুট্টার উৎপাদন ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে ধানের পরই দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ আবাদকৃত শস্য ভুট্টা। ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ মৌসুমে বাংলাদেশে সব মিলিয়ে ৪০ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদন হতে পারে, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি।
ইউএসডিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কৃষকরা উচ্চফলনশীল ভুট্টা বীজের ব্যবহার বাড়িয়েছে। এছাড়া পণ্যটি আবাদে অনুকূল আবহাওয়া কৃষকদের ভুট্টা আবাদে আগ্রহী করে তুলছে। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে দেশে কৃষিপণ্যটির বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ মৌসুমে দেশে হেক্টরপ্রতি ভুট্টার ফলন দাঁড়াতে পারে আট টনে, যা গত মৌসুমের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি। আর পণ্যটির আবাদি জমির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে পাঁচ লাখ হেক্টর, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি।
মত্স্য ও পশুখাদ্য হিসেবে দেশে ভুট্টার চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে সরকার ভুট্টা আবাদে বিশেষ জোর দিয়েছে। যশোর, বান্দরবান, রাঙামাটি জেলায় সবচেয়ে বেশি ভুট্টা আবাদ হয়। এছাড়া উত্তরবঙ্গের রাজশাহী জেলায় বোরো মৌসুমে (নভেম্ব্বর-মার্চ) স্বল্প পরিসরে ভুট্টার আবাদ হয়ে থাকে। দেশে উৎপাদিত ভুট্টার বেশির ভাগই অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবহার হয়।
এবার মৌসুমে দেশের ভুট্টা ক্ষেতে ফল আর্মিওয়ার্মের মতো ক্ষতিকর পতঙ্গের প্রকোপ বেড়েছে। বাংলাদেশ সরকার এসব ক্ষতিকারক পতঙ্গের প্রকোপ প্রশমনে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।









