বড় ধরনের বাজারমূল্য হারিয়েছে টেসলা। গত এপ্রিলে ইলোন মাস্ক টুইটার অধিগ্রহণের নিলামে অংশ নেয়ার পর থেকেই পুঁজিবাজারে মার্কিন বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর নিম্নমুখী রয়েছে। এতে সম্পদের পরিমাণ কমছে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহীর। ফলে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তকমা হারিয়েছেন তিনি। ইলোন মাস্ককে হটিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ধনী হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড এলভিএমএইচের প্রধান নির্বাহী বেহনা আহনোঁ। ফোর্বস ও ব্লুমবার্গ উভয় বিলিয়নেয়ার সূচকেই তিনি টুইটারের সিইওকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন। খবর বিবিসি।
গত সপ্তাহেও বেহনা আহনোঁ বিশ্বের শীর্ষ ধনী হয়েছিলেন। তবে কিছু সময় পর তিনি আবারো ইলোন মাস্কের পেছনে পড়ে যান। সর্বশেষ গতকাল ফরাসি বিলাসপণ্য জায়ান্টের সিইওর নিট সম্পদ ইলোন মাস্কের চেয়ে অনেক এগিয়ে গিয়েছে। মার্কিন ব্যবসায়িক সাময়িকী ফোর্বসের তথ্য অনুসারে, গতকাল বিকাল পর্যন্ত ইলোন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৬৮০ কোটি ডলার। অন্যদিকে বেহনা আহনোঁর সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৮৬০ কোটি ডলার।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির সম্পদের পরিমাণ ১৩ হাজার ৪৮০ কোটি ডলার। এছাড়া ১১ হাজার ৫৭০ কোটি ডলারের সম্পদ নিয়ে শীর্ষ ধনীদের তালিকায় চতুর্থ অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, ১০ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার নিয়ে মার্কিন বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট পঞ্চম এবং ১০ হাজার ৬৯০ কোটি ডলারের সম্পদ নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস।
অথচ বিশ্বজুড়ে মহামারীর বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতেও ইলোন মাস্কের সম্পদ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল। এমন পরিস্থিতিতে গত বছরের শেষ দিকে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক মরগান স্ট্যানলির একজন বিশ্লেষক ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, বিশ্ব প্রথমবারের মতো ট্রিলিয়নেয়ার (লাখ কোটি ডলার) পেতে যাচ্ছে। আর তিনি আর কেউ নন ৫১ বছর বয়সী ইলোন মাস্ক। সে সময় তিনি শীর্ষ ধনী ছিলেন। তার সম্পদের মূল্য ছিল ২৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার। ব্যাংকটির বিশ্লেষক অ্যাডাম জোনস জানিয়েছিলেন, টেসলার উত্থান ইলোন মাস্ককে শীর্ষ ধনীদের কাতারে নিয়ে এসেছিল। তবে এবার টেসলা নয়। ইলোন মাস্ককে লাখ কোটি ডলার সম্পদের মালিক করে দিতে চলেছে তার মহাকাশ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। যেকোনো শিল্পের মধ্যে স্পেসএক্স বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান সংস্থা হবে বলেও মত দিয়েছিলেন তিনি।
ইলোন মাস্ক টেসলার সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার। ইভি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটিতে তার প্রায় ১৪ শতাংশ অংশীদারত্ব রয়েছে। গত অক্টোবরে তিনি ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক টুইটার অধিগ্রহণ সম্পন্ন করেছিলেন।
টুইটার কেনার অর্থ সংগ্রহ করতে টেসলার একের পর এক শেয়ার বিক্রির ঘোষণায় পুঁজিবাজারে সংস্থাটির শেয়ারদরে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। তাছাড়া ইলোন মাস্ক টুইটার কেনার ঘোষণার পর থেকেই গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগকারীরা শঙ্কায় রয়েছেন। টুইটারে বেশি সময় দিলে তিনি বিশ্বের শীর্ষ ইভি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির দিকে খুব বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন তারা। আবার মাইক্রোব্লগিং সাইটটি কেনা নিয়ে আইনি লড়াইয়ে জড়িয়েছিলেন মাস্ক। স্প্যাম ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্যসংক্রান্ত জটিলতার জেরে তিনি টুইটার অধিগ্রহণ স্থগিতের ঘোষণাও দিয়েছিলেন। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে টুইটার মামলা করলে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তিনিও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, টুইটার অধিগ্রহণ নিয়ে বিভ্রান্তি টেসলার শেয়ারদর পতনের অন্যতম কারণ।
বিনিয়োগ ফার্ম ওয়েডবুশ সিকিউরিটিজের ড্যান ইভস বলেন, ‘টুইটার চুক্তি নিয়ে চলা “সার্কাস”
টেসলার শেয়ারদরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এতে মানুষের কাছে ইলোন মাস্ক সুপারহিরো থেকে একজন খলনায়ক বনে গেছেন।’
এদিকে বিনিয়োগকারীরাও উদ্বিগ্ন যে প্রতিষ্ঠানটির ইভির চাহিদা ধীর হতে পারে। কারণ বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এছাড়া টেসলার গাড়ি প্রত্যাহার এবং সড়কে দুর্ঘটনা ও অটোপাইলট ফিচার নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্ত শেয়ারদরকে নিম্নমুখী করে দিয়েছে।










