সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ভুট্টা আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরে প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি আমদানি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বাজারে চাহিদা থাকায় আমদানি বেড়েছে কৃষিপণ্যটির। আমদানি করা এ ভুট্টা বিভিন্ন অঞ্চলে মাছ, পোলট্রি ও গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়।
ভোমরা শুল্কস্টেশনের রাজস্ব শাখার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এ বন্দর দিয়ে ভুট্টা আমদানি করা হয়েছে ৯ হাজার ৯১২ টন। এর মধ্যে গত জুলাইয়ে ৭ হাজার ৫৪৪ টন এবং আগস্টে ২ হাজার ৩৬৮ টন। যার মূল্য ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এর আগে গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এ বন্দর দিয়ে ৭ হাজার ১৬ টন ভুট্টা আমদানি হয়েছিল। যার মোট মূল্য ছিল ১৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে পণ্যটির আমদানি বেড়েছে ২ হাজার ৮৯৬ টন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।
কৃষিজাত পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভোমরা স্থলবন্দরের মেসার্স গাজী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী গাজী আমজাদ হোসেন জানান, চলতি অর্থবছর ভুট্টা আমদানি বেড়েছে। দেশীয় বাজারে পণ্যটির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আমদানিতে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গিয়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তার প্রতিষ্ঠান দিয়েই ভুট্টা আমদানি বেড়েছে ২৫-৩০ শতাংশ। এসব ভুট্টা স্থানীয় জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এল্লারচর বাজারের ভুট্টা মিলের স্বত্বাধিকারী আমান উল্লাহ বলেন, সম্প্রতি ভুট্টার চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি দামও বাড়তি। গত অর্থবছরের একই সময় আমরা পাইকারি দরে ভুট্টা কিনেছি ২২-২৪ টাকা কেজি, যা এখন পাইকারিতে কিনতে হচ্ছে ৩৫-৩৬ টাকা কেজি। সাতক্ষীরার ভুট্টার মূল ক্রেতা হলেন মাছচাষীরা। তারা মাছের খাবার হিসেবে ভুট্টা মাড়াই করে নেন। এছাড়া গোখাদ্য হিসেবে এবং পোলট্রির খামারগুলোয়ও ভুট্টার ব্যবহার হয়। এসব ব্যবসায়ীও আমাদের কাছ থেকে ভুট্টা কেনেন।
কৃষিজাত পণ্যটি আমদানি বাড়লেও তাতে সরকারের কোনো রাজস্ব আসে না বলে জানিয়েছেন ভোমরা শুল্কস্টেশন কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার নেয়ামুল হাসান। তবে সম্প্রতি ভুট্টার আমদানি বেড়েছে বলেও জানান তিনি।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নুরুল ইসলাম জানান, চাহিদা মেটাতে জেলায়ও ভুট্টা চাষ হচ্ছে। গত মৌসুমে এ জেলায় ৩০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছিল। যেখান থেকে কৃষকরা ২ হাজার ৬০০ টন উৎপাদন করেছিলেন।









