করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেও সদ্য বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের রফতানি আয় বেড়েছে। গত এক বছরে এ বন্দরে ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টন বিভিন্ন প্রকার বাংলাদেশী পণ্য রফতানি হয়েছে, যার মূল্য ১ হাজার ৮৪৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা; যা ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় অন্তত ২৫ শতাংশ রফতানি আয় বেশি। রফতানীকৃত এসব পণ্যের মধ্যে রাইস ব্র্যান অয়েল, মধু, ক্লিনিক ক্লথ, পাটের সুতা, পাটের চট, গার্মেন্টস বর্জ্য, নারকেলের শলা, প্রাণের জুস, লিচু ড্রিংস, প্রাণের চানাচুর ও চিপস অন্যতম।

বন্দরের রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুন্দরবন এজেন্সির স্বত্বাধিকারী দীপংকর ঘোষ জানান, করোনাকালীনও অন্যান্য বছরের তুলনায় সদ্য বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে পণ্য রফতানি বেশি হয়েছে। তার প্রতিষ্ঠান নিয়মিত বাংলাদেশী বিভিন্ন প্রকার পণ্য রফতানি করে আসছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে পাটের সুতলি, রাইস ব্র্যান অয়েল ও প্রাণ গ্রুপের কয়েক প্রকার পণ্য।

সাতক্ষীরার মধু রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স শিমু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ও বাংলাদেশ মৌমাছি পালন সমিতির সভাপতি মো. আফজাল হোসেন জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরে এ ভোমরা বন্দর দিয়ে প্রায় ২৫০ টন মধু রফতানি করেছেন, যা অন্যান্য বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। তিনি আরো বলেন, ২০১৩ সাল থেকে ভারতে মধু রফতানি করে আসছেন। তবে করোনার জন্য অন্য সব বছরের তুলনায় মধুর চাহিদা বেশি গেছে সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টন বিভিন্ন প্রকার বাংলাদেশী পণ্য ভারতে রফতানি হয়েছে। রফতানীকৃত এসব পণ্যের মূল্য ১ হাজার ৮৪৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা; যা ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় অন্তত ২৫ শতাংশ রফতানি আয় বেশি। সূত্রটি আরো জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশী পণ্য রফতানি হয়েছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ৯৮৩ টন, যার মূল্য ছিল ১ হাজার ৩২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। তবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে পণ্য রফতানির পরিমাণ বেশি অথচ মূল্য কম হওয়ার কারণ হিসেবে সূত্রটি জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে যেসব পণ্য রফতানি হয়েছে, তা ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে অনেক উচ্চমূল্যের, যে কারণে পণ্য রফতানির পরিমাণ কম হলেও মূল্য বেশি এসেছে।

ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, ভোমরা বন্দরে পণ্য রফতানিতে কোনো প্রকার নিষেধাজ্ঞা নেই। এ কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ী রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে তাদের পণ্য রফতানি করেন। তবে এ বন্দরে পণ্য আমদানিতে রয়েছে নানা ধরনের জটিলতা। পূর্ণাঙ্গ বন্দর হয়েও সব ধরনের পণ্য আমদানি করতে পারেন না ব্যবসায়ীরা।

সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু জানান, ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে দেশের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় ভোমরা বন্দর খুবই সম্ভাবনাময়। এখান থেকে কলকাতার দূরত্ব খুবই কম। ফলে এ বন্দর ব্যবহার করে ব্যবসায়ীরা খুব সহজে পণ্য আমদানি-রফতানি করতে পারেন। তাছাড়া সময় ও পরিবহন খরচও সাশ্রয় হয়।

ভোমরা স্থলবন্দরের দায়িত্বরত কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমীর মামুন বণিক রফতানির আয়ের পরিমাণ বেশি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বণিক বার্তাকে জানান, ব্যবসায়ীদের চাহিদার ওপর নির্ভর করে পণ্য রফতানি বা আমদানি হয়।