অপ্রচলিত বাজারে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় দেশের পোশাক রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) এসব বাজারে রফতানি প্রবৃদ্ধি এসেছে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ১২ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে তুরস্ক, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। বিজিএমইএ সংকলিত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশ থেকে তুরস্কে ১৪ কোটি ২৪ লাখ ডলারের পোশাক রফতানি হয়। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৯ কোটি ২৪ লাখ ডলার। সে হিসেবে প্রবৃদ্ধি এসেছে ৫৪ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে চীনে রফতানি হয় ১৩ কোটি ৯৮ লাখ ৪০ হাজার ডলারের পোশাক। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৯ কোটি ৪৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। সে হিসেবে প্রবৃদ্ধি এসেছে ৪৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। অন্যদিকে ইউএইতে এ পাঁচ মাসে পোশাক রফতানি বেড়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ সময়ে রফতানি হয় ১৭ কোটি ৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার মূল্যের পোশাক, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১১ কোটি ৭৪ লাখ ১০ হাজার ডলার।
গত ছয় অর্থবছর ধরে অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪৬৭ কোটি ডলারের পোশাক অপ্রচলিত বাজারে রফতানি হয়, যা মোট পোশাক রফতানির ১৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। পরের অর্থবছরে তা বেড়ে ৫৬৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছিল। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪৭৭ কোটি ডলার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫০৮ কোটি ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬৩৭ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়। গত অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই অপ্রচলিত বাজারের আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়।
বিজিএমইএর পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের এএমডি মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘চলতি বছরের জানুয়ারি-নভেম্বর পর্যন্ত ইউরোপে আমাদের পোশাক রফতানি বেড়েছে ২ দশমিক ২৮ শতাংশ মাত্র, আর আমেরিকায় কমেছে ৯ শতাংশ। অর্থাৎ, সার্বিক মূল্যায়নে আমাদের প্রধান দুটি বাজারে রফতানি খুব একটা বাড়েনি। অপরদিকে অপ্রচলিত বাজারে রফতানি বেড়েছে ২২ দশমিক ৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ, অপ্রচলিত বাজারে প্রবৃদ্ধির কল্যাণেই আমাদের সার্বিক রফতানিতে এখনো কিছুটা প্রবৃদ্ধি বজায় আছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে জিএসপিসহ নানা সুবিধা হাতছাড়া হবে। ফলে রফতানিকারকরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন। তাই রফতানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে অপ্রচলিত বাজারগুলোই ভরসা হতে পারে। অপ্রচলিত বাজারে পণ্য রফতানি বাড়াতে বাংলাদেশী দূতাবাসগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। আগামী বছর সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতি চাপের মধ্যেই থাকবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ চেইন ঠিক রাখা সম্ভব হলে এবং নতুন পণ্য ও বাজারে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা যাবে।









